পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন বাড়িওয়ালা

রামগঞ্জ থেকে পালানো সেই করোনা রোগী নিজেই ধরা দিলেন

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২০, ০০:১৯

করোনা পজিটিভ হওয়ার কথা জানতে পেরে রামগঞ্জ থেকে পালিয়ে আসা কার্তিক দাস (৩২) নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে ধরা দিয়েছেন। গতকাল রবিবার রাতে নাঙ্গলকোট রেলস্টেশন থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তাকে উপজেলা আইসোলেশন সেন্টারে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। কার্তিক দাসের অভিযোগ, বাড়িওয়ালা ও স্থানীয় লোকজনের আগুনে পুড়িয়ে মারার হুমকির ভয়েই তিনি পালিয়েছিলেন।

কার্তিক দাস কক্সবাজার সদর এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে চাকরি করতেন। করোনার প্রভাবে ঐ জেলাকে লকডাউন ঘোষণার পর তিনি চলে আসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাড়া বাসায়। এখানে আসার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং করোনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ায় বাড়ির মালিক তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার চাপ দেন।

কার্তিক দাস বলেন, ‘আমি যেই বাড়িতে ভাড়া থাকি, সেই বাড়ির সবাই বাড়ি ছাড়ার জন্য আমাকে চাপ দিতে থাকে এবং বাইরে দিয়ে তালা লাগিয়ে ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। এতে আমি বলেছি, প্রশাসনের সাথে একটু কথা বলে নেই, ১০ মিনিট সময় দেন। তা-ও দেয়নি। বাইরে থেকে কেউ বলছে ঢিল মার, কেউ বলছে বাঁশ দিয়ে খোঁচা মার, আবার কেউ বলছে মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে ঘরে মারো। এভাবে আমাকে মানসিকভাবে চাপ দেওয়ার পর আমি ঘর থেকে বের হয়ে টার্মিনালে চলে আসি। পরে চালবোঝাই একটি ট্রাকে করে লাকসামে চলে আসি। সেখান থেকে রেললাইন দিয়ে হেঁটে নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনে আসি।’

পরে তিনি সেখান থেকে নিজেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে তার সমস্যার বিষয়টি জানান। এরপর কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীরের নির্দেশে তাত্ক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করেন নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লামইয়া সাইফুল।

অন্যদিকে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, পালিয়ে যাওয়া যুবকের বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। তিনি কক্সবাজার থেকে পালিয়ে রামগঞ্জে তার আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। এখানে তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয়। শনিবার সকালে তিনি সবার অজান্তে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে রাতে কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।