গত শনিবার টরন্টোতে করোনা আক্রান্ত হয়ে শওকত আলী নামের এক বাংলাদেশি মারা গেছেন। তিনি গত ছয় দিন ধরে গ্যারোন জেনারেল হসপিটালে আইসিইউতে চিকিত্সাধীন ছিলেন। শওকত আলী সিলেটের বালাগঞ্জের অধিবাসী এবং সিলেট তাজপুর ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ছিলেন। অবসর নিয়ে স্ত্রী, কন্যা, পুত্র নিয়ে সপরিবারে স্থায়ীভাবে টরন্টোতে বসবাস করছিলেন। প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত ছয় বাংলাদেশিসহ কানাডায় করোনায় মারা গেলেন ১ হাজার ৪৬৯ জন। অসুস্থ রয়েছেন ৩৩ হাজার ২১৮ জন। মৃত্যুর হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ শতাংশ।
এদিকে কানাডা থেকে বাংলাদেশে গিয়ে আটকা পড়েছেন প্রায় হাজারখানেক বাংলাদেশি। তারা প্রত্যেকেই গভীর উত্কণ্ঠার মধ্যে দিনযাপন করেছেন। দীর্ঘ তিন-চার মাস পর তাদের কেউ কেউ কানাডায় ফিরেছেন। ইতিমধ্যে কাতার এয়ারলাইন্সের দুইটি চার্টার বিমান গত ১৪ ও ১৬ এপ্রিল ঢাকা থেকে নিয়ে এসেছে প্রায় ৫০০ যাত্রী। এদের মধ্যে ফেরত দুজন এবং ঢাকায় আটকে পড়া দুজন ইত্তেফাকের কাছে তাদের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করছেন।
কাতার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ফেরত আসা এম এ কাদের মিলু ফিরেই মেসি স্কয়ারে নিজ ফ্ল্যাটে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। তিনি ওয়ানওয়ে ভাড়া দিয়েছেন ৪ হাজার ডলারের ওপরে! তার পরও ঢাকাস্থ কানাডিয়ান দূতাবাসের প্রচেষ্টা এবং ভূমিকার প্রশংসা করে মিলু বলেন, আমার স্ত্রী, ছেলেমেয়ের জন্য অস্থির ছিলাম। ঢাকাতেও ছিলাম গৃহবন্দি। আর কানাডায় এসেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী মুক্তিযোদ্ধা সালাম শরীফের করোনায় করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। এ কেমন মৃত্যু যে স্বজনকে শেষ বিদায় দেওয়ার সামান্য সুযোগ থেকে সবাই বঞ্চিত!
অপরদিকে এখনো ঢাকায় শতশত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান আটকে আছেন। তাদের এক জন বিশিষ্ট শিল্পী এবং লেখক দিনু বিল্লাহ। নায়গ্রাবাসী দিনু বইমেলার টানে গত ১৮ জানুয়ারি স্ত্রীসহ বেড়াতে গিয়ে এখন চামেলীবাগে গৃহবন্দি। সৌদি এয়ারলাইন্সে ফেরার কথা ছিল ৩১ মার্চ। তারা ফেরার জন্য অস্থির। দিনু বলেন, আমার ওষুধ প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। তাই চিন্তিত। এখন সকল বিমান বন্ধ। কবে স্বাভাবিক হবে, কেউ বলতে পারছে না।
বাঙালি পাড়া বলে খ্যাত টরন্টোর টিসড্যালের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন। একমাত্র মেয়ে অদিতির বিয়ের জন্য সপরিবারে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে। এমিরেট্?স এয়ারলাইন্সে ফেরার কথা ছিল ২৫ মার্চ। যথারীতি এমিরেট্?স বন্ধ। তারা টাকাও ফেরত দিবে কি না বলা মুশকিল। অপারেশনের রোগী জাকির বলেন, এখানের চিকিত্সা ব্যবস্থা আর কানাডার চিকিত্সা ব্যবস্থা এক নয়। যদি শরীর খারাপ হয়ে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ি, তাহলে কী হবে জানি না। যদিও গফরগাঁয়ে চমত্কার মনোরম পরিবেশে গ্রামের বাড়িতে আছি। মায়ের কাছে আছি। তার পরও এখানে সোশ্যাল ডিসটেন্সিং বলে কিচ্ছু নেই। বাজারে, মসজিদে মানুষের ভিড়। আমি করোনার ভয়ে আতঙ্কিত! আমি দ্রুত ফিরতে চাই।
