টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন প্রায় ২৮ হাজার কর্মহীন ও অসহায় দরিদ্র পরিবার। বাঁশতৈল ইউনিয়নের আদিবাসি পল্লী গায়রাবেতিল এলাকায় বৃদ্ধা মালতী বর্মন জানিয়েছেন কদিন আগেও তার বাড়িতে খাবার ছিল না। করোনা ভাইরাস দুর্যোগের এই সময়ে তিনি ১০-১২ দিনের খাদ্য পেয়ে তার চোখে মুখে আনন্দের হাসি। আদিবাসি পল্লীর অনেকেই বলেছেন এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও স্যারের অনুদানে আমরা খুশি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেছেন, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে এলাকায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সঙ্গে সমন্ময়ে তালিকা তৈরী করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সামগ্রী সুষ্ঠু ভাবে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার মির্জাপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের দুর্যোগের এই সময়ে কোন কর্মহীন ও অসহায় পরিবার না খেয়ে নেই। কর্মহীন প্রতিটি পরিবার কম বেশী সহায়তা পাচ্ছেন। ৮নং ভাদগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের জাহানারা বেগম (৫০) ও বুড়িহাটি গ্রামের ফিরোজ মিয়া (৪৫) জানান, আমরা অসহায় ছিলাম। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা পেয়েছি। তারা আমাদের বাড়ি বাড়ি এসে খাদ্য দিয়েছেন। আমরা ১৫-২০ দিন চলতে পারবো। তাদের মত অনেকেই এমন সাহায্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে সামনের দিন কি ভাবে কাটবে এ বিষয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান জানান, পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ৬ হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। চাল, ডাল, লবন, পিয়াজ, আলু ও সাবান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সমন্ময়ে ১০ টাকা কেজি দরের চাল দেওয়া হচ্ছে। আরও ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেন এমপির উদ্যোগে ৩ হাজার পরিবার। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদের উদ্যোগে ২ হাজার পরিবার। মির্জাপুর পৌরসভার উদ্যোগে ১ হাজার পরিবার। কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লি. এর উদ্যোগে ২ হাজার পরিবার।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও হংকং শাখার আওয়ামী লীগের সভাপতি শিল্পপতি মো. আবুল কালাম আজাদ লিটনের উদ্যোগে ১ হাজার পরিবার। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাসটিসের সভাপতি খান আহমেদ শুভর উদ্যোগে ১ হাজার ৫০০শ পরিবার। যুবলীগের আহবায়ক মো. শামীম আল মামুনের উদ্যোগে ৭৫০ পরিবার। স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি হাজী আবুল হোসেনের উদ্যোগে ৬০০শ পরিবার। আওয়ামী লীগের নেতা ও ”মানবতার হাত” সামাজিক সংগঠনের চেয়ারম্যান ইজ্জত আলী জনির উদ্যোগে ১ হাজার পরিবার। সোহাগপাড়ার ব্যবসায়ী মো. শওকত হোসেনের উদ্যোগে ৪৫০ পরিবার। গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (পুর্ব) সভাপতি মো. আশরাফ খানের উদ্যোগে ৫৫০ পরিবার। গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ (পশ্চিম) সভাপতি হাজী মো. হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগ্যে ৬৫০ পরিবার। ই বি এস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাফিউর রহমান খান ইউসুফজাই ও ইউসুফজাই ফাইন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান খান ইউসুফজাই রেমনের উদ্যোগে ২ হাজার পরিবার। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ২ হাজার পরিবারসহ প্রায় ২৮ হাজার পরিবার এ পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা পেয়েছে বলে নির্বাহী অফিসারের কায়ালয় সূত্র জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. যুবায়ের হোসেন এবং মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, এলাকার কর্মহীন ও অসহায় পরিবারগুলো যাতে সঠিক ভাবে খাদ্য সহায়তা পান প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের এমপি ও সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেন বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় কোন কর্মহীন ও অসহায় পরিবার না খেয়ে থাকবে না। আমি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্ময় করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সহায়তা করার জন্য। এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সমন্ময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কমিটি গঠন করে ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
