মুকসুদপুরে ত্রাণের দাবিতে সড়ক অবরোধ 

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২০, ১৮:৩০

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সরকারি ত্রাণ বঞ্চিত ২ শ’ হত দরিদ্র মানুষ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। আজ সোমবার সকাল ১০ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত  গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়া বাসট্যান্ডে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

খবর পেয়ে জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান অখিল বৈরাগী, সাবেক চেয়ারম্যান মিহির রায়, জলিরপাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মজুমদার ও জলিরপাড় ইউপির ৭নং ওয়ার্ড মেম্বর সুভাষ বৈদ্য গিয়ে ত্রাণ বঞ্চিতদের ত্রাণ দেয়ার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

ত্রাণ বঞ্চিত জলিপাড় ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণজলিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, আমাদের এলাকার ২ শ’ পরিবার খুবই গরীব। তারা ভ্যান চালিয়ে ও দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের কাজ নেই। হাতে টাকা পয়সাও নেই। পরিবারের সদস্য নিয়ে কোন রকমে ১ বেলা আধ বেলা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।

ত্রাণ বঞ্চিত জলিপাড় ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণজলিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ফজর আলী শেখ, বাদল দাস বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান অখিল বৈরাগী সরকারি ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি করেছে। তিনি তার দরিদ্র ও সচ্ছল সমর্থকদের ত্রাণ দিয়েছেন। তার সমর্থকরা সরকারি ত্রাণ , এমপির ব্যক্তিগত ত্রাণ, আওয়ামী লীগের ত্রাণ সহ ৩/৪  বার ত্রাণ পেয়েছেন। কিন্তু আমরা একবারও ত্রাণ পাইনি। ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। অবশেষে বাধ্য হয়েই পথে নেমেছি।

ত্রাণ বঞ্চিত জলিপাড় ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণজলিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা জামাল শেখ বলেন, সরকার সব উপজেলার প্রকৃত গরিব মানুষের তালিকা করেছে। এ তালিকা অনুযায়ী সরকার ত্রাণ পাঠায়। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা এটি নয়ছয় করে। তাই আমাদের হাতে ত্রাণ পৌছায় না। এ কারণে ওএমএস এর চাল বিক্রি, ত্রাণ ও ১০ টাকা দরের চাল বিতরণ, রেশন কার্ড সহ সরকারি সব সুবিধা প্রশাসনের মাধ্যমে আমাদের দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের বাদ দেয়ার দাবি জানাই।

আরো পড়ুন: কালীগঞ্জে একদিনে করোনায় আক্রান্ত ৩১

জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান ত্রাণ বঞ্চিতদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ত্রাণ বিতরণে স্বজনপ্রীতি করিনা। ওই এলাকায় আমরা সামান্য কিছু ত্রাণ দিয়েছে। তারপরও যারা পায়নি, তাদের তালিকা করে ত্রাণ দেব। এ প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর তারা ১৫ মিনিটের মধ্যেই সড়কে থেকে চলে যান। প্রতিবার প্রতি ওয়ার্ডে  ৫০-৬০ পরিবারে জন্য ত্রাণ আসে। কিন্তু চাহিদা থাকে অনেক। তাই সবার চাহিদা মেটাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।  ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব মেম্বরদের দেয়া আছে। ত্রাণ পাওয়ার উপযুক্তদেরই ত্রাণ দিতে মেম্বরদের নির্দেশ দিয়েছি।

জলিরপাড় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বর সুভাষ বৈদ্য বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে ত্রাণ বিতরণের কোন দায়িত্ব দেননি। তিনি তার লোকজন দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। 

ইত্তেফাক/এএএম