গৃহবধূকে ভাতিজিজামাইয়ের কুপ্রস্তাব, রাজি না হওয়ায় নির্যাতন-ঘরবাড়ি ভাঙচুর

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৭

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন এবং তার বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে আহত ওই গৃহবধূ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম হলদিবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্বামী অন্যত্র বিয়ে করার পর প্রায় এক বছর ধরে তার ভাতিজিজামাই মনিরুজ্জামান বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। রাত-বিরাতে তাকে উত্ত্যক্তও করতেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। পরে স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি জানালে মনিরুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন এবং বসতঘর ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা লাভলী বেগম বলেন, মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে উত্ত্যক্ত করতেন। সোমবার তাকে মারধরের পাশাপাশি ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনিরুজ্জামান। মুঠোফোনে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। বরং তার স্ত্রীকে ওই পক্ষের লোকজন মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, তার স্বামী প্রায় দেড় বছর আগে অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর ২০২৪ সালে মনিরুজ্জামান তার শাশুড়ির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় তার শাশুড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করলে মনিরুজ্জামানকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। জামিনে বের হওয়ার পর তাকে একইভাবে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে নির্যাতন ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার হাতীবান্ধা থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জান সরকার বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসএ