উত্তরাঞ্চলের ধানকাটা শ্রমিক যাচ্ছেন অন্যত্র

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২০, ২০:৪৭

অনুমতি নিয়ে ও অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায়

ইত্তেফাক ডেস্ক

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান লকডাউনের মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তরাঞ্চলের কৃষি শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে ছুটছেন (মূলত ধান কাটার জন্য) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এলাকায় কাজ না থাকা এবং লকডাউনের কারণে ঘরের বাইরে যেতে না পারায় বিপর্যয়ের মুখোমুখি তারা। নিতান্তই পেটের দায়ে তাদের এ পথচলা। অনেকেই পথে যাতে অসুবিধা না হয় সে জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পথে নামছেন।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ও বাঘা সংবাদদাতা জানান, গত তিন দিনে পদ্মার তীরবর্তী বাঘা উপজেলা থেকে অন্তত ২ হাজার কৃষি শ্রমিক ধান কাটার উদ্দেশ্যে এলাকা ছেড়েছেন। এদের অধিকাংশই উপজেলার চরাঞ্চল ও পদ্মার তীরবর্তী পাকুড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। রবিবার পর্যন্ত ২ হাজার শ্রমিক বাঘা উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে বোরো ধান পাকতে শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি ধান কাটা শুরু হয়ে যাবে। এ সময় রাজশাহী এলাকায় তেমন কোনো কাজ নেই। প্রায় অলস দিন কাটছে কৃষি শ্রমিকদের। তার ওপর করোনা ভাইরাসের কারণে ঘর থেকে বের হতে না পেরে সঞ্চয়ের টাকাও প্রায় শেষ। ধারদেনা করে সংসার চালাতে গিয়ে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই চলমান লকডাউনে জেল-জরিমানা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে কাজের সন্ধানে ছুটছেন কৃষি শ্রমিকরা। প্রতিদিন শত শত কৃষি শ্রমিক নিজ এলাকা থেকে ট্রাক, ভটভটি ভাড়া করে কাজের সন্ধানে ঐসব অঞ্চলে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, দেশের সব অঞ্চলে সব ফসল একইসঙ্গে পাকে না। কিছু এলাকায় এরই মধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। রাজশাহীর বাঘা কৃষির পাশাপাশি আমের জন্য বিখ্যাত। এ অঞ্চলে এক/দেড় মাস পর আম পাকা শুরু হবে। তখন বাইরে থাকা সব শ্রমিক নিজ এলাকায় ফিরে আসবেন। তিনি বলেন, সরকার কৃষি কাজে বাধা সৃষ্টি করেনি। কারণ, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই বাঘার হাজার হাজার শ্রমিক এবং ক্ষদ্র কৃষক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে তার কাছে আসছেন। এরপর তার ও ইউএনওর সুপারিশ নিয়ে ধান কাটতে যাচ্ছে। এদের অনেকে যতসামান্য সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল পেয়েছে। ঐ চাল দিয়ে তো সংসার চলছে না।      

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, এরই মধ্যে প্রায় ২ হাজার কৃষি শ্রমিক অনুমতি নিয়ে ধান কাটতে চলে গেছে। অনেকে এখনো আসছে। তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। অনেকেই এক সঙ্গে ২০ থেকে ৩০ জনের দল গঠন করে গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে কাজে চলে যাচ্ছেন।