সংবিধানের মর্যাদা রক্ষায় ১৮ এপ্রিলের সংসদ অধিবেশন একটি বিরল ও সাহসী ঘটনা

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২০, ২১:২৭

মোহাম্মদ নাসিম

সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে গত ১৮ এপ্রিল একটি দৃষ্টান্তমূলক ও সাহসী ঘটনা আমাদের দেশে ঘটেছে। দেশ এখন করোনা ভাইরাসের ব্যাপক আক্রমণের শিকার। সারাদেশে চলছে কার্যত লকডাউন। ঘরে বন্দি জনজীবন।

এই সময়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে জাতীয় সংসদের ইতিহাসে সবচাইতে স্বল্পকালীন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবিচল আস্থার এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

নিজে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন সেটি জেনেও তিনি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে দেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পরে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল, যে দেশে বারবার সেনাশাসক জিয়া-এরশাদ-মোস্তাকরা গণতন্ত্র ও শাসনতন্ত্রকে ছিন্নভিন্ন করে বারবার সামরিক শাসন জারি করেছিল। গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য এদেশের মাটি ও পথ বারবার রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। দেশবাসীর নিশ্চয় মনে আছে, ১৯৯২ সালে বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা সেদিন সংসদীয় গণতন্ত্রের বিল এনে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ক্ষমতাবান করেছিলেন।

এবং সেই থেকে দেশে যে সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল, মাঝেমধ্যে তার পথে বাধা এলেও শেখ হাসিনা সংসদীয় গণতন্ত্র ও সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে অবিচল থেকেছেন। তিনি যখন ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করেছেন। সংসদীয় কমিটিগুলো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে একজন সিনিয়র সদস্যকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি বানিয়েছেন।

আমরা দেখেছি, যখন খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে গলা টিপে ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো প্রহসনের নির্বাচন করেছেন, তখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্র রক্ষায় বারবার রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলেছে।

কোনো অজুহাত না দেখিয়ে সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার্থে ১৮ এপ্রিল সংসদ অধিবেশন আহ্বানের ক্ষেত্রে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় স্পিকারকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সেদিন আমরা প্রায় ১৫০ জন সংসদ সদস্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়াত সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফের শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেছি এবং দেশের চলমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

সারা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের কারণে অচল ও অবরুদ্ধ হয়ে গেছে, তখন একটি যৌক্তিক ও সংবিধানের মর্যাদার রক্ষায় শেখ হাসিনার উদ্যোগ অবশ্যই সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এদেশে যেন কোনো অশুভ শক্তি কোনো অজুহাতেই সাংবিধানিক ধারাকে ব্যাহত করতে না পারে, তাদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। মাননীয় স্পিকারকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি সেদিন সংসদ ভবন এলাকায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। হুইপ ও সংসদের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, নিরাপত্তার দায়িত্বে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যেভাবে সংসদ সদস্যদের করোনা ভাইরাসের যে কোনো সংক্রমণের সম্ভাবনাকে নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন, তা অবশ্যই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করতে হয়। আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই যে সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি বিরল মুহূর্তের শরিক হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ ও শঙ্কামুক্তভাবে এগিয়ে চলতে হবে, ১৮ এপ্রিলের সংসদ অধিবেশন সেটি আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে। এদেশে স্বাধীনতার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংবিধান ও সার্বভৌম জাতীয় সংসদ আমাদের পবিত্র আমানত, ১৮ এপ্রিল এটা আমাদের আবার মনে করিয়ে দিয়েছে।

n লেখক :প্রেসিডিয়াম সদস্য,

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সমন্বয়ক,

কেন্দ্রীয় ১৪ দল