বড়ো ঝুঁকি এড়াতে পুলিশ সদস্যদের গ্রুপ করে ডিউটি ও আবাসন

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২০, ২২:০৫

কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। শুধু সস্তা দামের একটি মাস্ক পরেই মানুষকে যত্রতত্র চলাফেরায় নিবৃত্ত করার কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে মৃত ব্যক্তির দাফন, ত্রাণ, মানুষের ঘরে খাবার, ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানোসহ সব ধরনের কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। এই পরিস্থিতিতে সবাই একসঙ্গে আক্রান্ত হবার বড়ো ঝুঁকি এড়াতে বিদ্যমান পুলিশ সদস্যদের পৃথক গ্রুপ করা হয়েছে। গ্রুপ ধরেই ডিউটি ও আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ঐ গ্রুপের কেউ আক্রান্ত হলে যেন অন্য গ্রুপকে কাজে লাগানো যায়। একই সঙ্গে পুলিশের কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তাকে রাজারবাগ হাসপাতালে চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি যাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে তাদের জন্য সায়েদাবাদে ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের          নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন। তারপরও তারা জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। গ্রুপ করার সুফল হলো, একটি গ্রুপ আক্রান্ত হলে অন্যদের ঝুঁকি এড়াতে তাদের সরিয়ে ফেলা হবে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে তারা মানুষকে সচেতন করার কাজ করে যাচ্ছে। কেউ কথা না শুনলে আমরা তাকে শাস্তি না দিয়ে মোটিভেশনের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছি। তবে শুধু পুলিশ সদস্যরা এই কাজ করলে হবে না, ধর্মীয় নেতা বা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে।’

রাজধানীর একটি থানার ওসি জানান, তার থানায় ৭০ জন অফিসার আর শতাধিক কনস্টেবল আছেন। অফিসাররা অধিকাংশই নিজ বাসায় থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন। আর কনস্টেবলদের তিনটি পৃথক গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। একটি গ্রুপ হোটেলে থাকছে। একটি গ্রুপ থানার ব্যারাকে এবং তৃতীয় গ্রুপ নিজ বাসায়। একটি গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে আরেকটি গ্রুপের সদস্যদের দেখা হচ্ছে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘রাজধানীতে এখন সর্বমোট পুলিশের সংখ্যা ৩৪ হাজারের মতো। রাজারবাগে যে ব্যারাক আছে সেখান থেকে অর্ধেক খালি করা হয়েছে। ফাঁকা মাঠে তাঁবু খাটানো হয়েছে। গ্রুপে গ্রুপে ভাগ করে তাঁবুতে নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে হোটেল, ভবনেও কিছু থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর থানাগুলোতেও পৃথক ব্যবস্থা তো রয়েছেই। এখন সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানুষকে বের হওয়া থেকে নিবৃত্ত রাখা।’