করোনা ভাইরাসের মহামারি পরিস্থিতিতে লকডাউন ও উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক আটকে আছেন বিভিন্ন দেশে। তাদের মধ্যে অনেকেই গিয়েছিলেন ভ্রমণে। কেউ বা চিকিত্সা নিতে। আবার হাজার হাজার প্রবাসী নাগরিক দেশে ফিরতে না পেরে অসহনীয় দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে চীন ছাড়া কোনো দেশের সঙ্গে প্লেন যোগাযোগ নেই। ফলে ফিরতে চাইলেও সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরতে উদগ্রীব ১৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে বিশেষ বিমানে দেশে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
জানা গেছে, প্রতিবেশী ভারতে গিয়ে প্রায় আড়াই হাজার বাংলাদেশি আটকে আছেন। এসব নাগরিক ভ্রমণ, চিকিত্সা, ব্যবসা, তাবলিগ জামাতসহ বিভিন্ন কারণে ভারত গিয়েছিলেন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সেখানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের তালিকা হয়েছে। এদের ফিরিয়ে আনতে ঢাকা থেকে চেন্নাই ও কলকাতায় আটটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। চেন্নাইতে চিকিত্সা নিতে যাওয়া ১৬৪ জন বাংলাদেশিকে গতকাল সোমবার নিয়ে এসেছে বিশেষ ফ্লাইট। তাদেরকে সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন চেন্নাই থেকে বিশেষ ফ্লাইট ঢাকায় আসবে। আর আজ ২১ ও ২৩ এপ্রিল কলকাতা থেকে ঢাকায় দুইটি বিশেষ ফ্লাইটে বাংলাদেশিরা আসবেন।
জাপান থেকে ফিরতে নিবন্ধন করা শতাধিক বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে আনার চেস্টা চলছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরতে চাইছেন সর্বাধিক ১৫ হাজার প্রবাসী। এখন বিশেষ ফ্লাইটে কীভাবে তাদের আনা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কুয়েত, ওমান, কাতার, আরব আমিরাত ও লেবাননে বাংলাদেশী আকামা শেষ হওয়া অবৈধ শ্রমিকদের ফেরত আনার বিষয়ে কাজ করছে সরকার। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশেও অনেক বাংলাদেশি নাগরিক আটকে রয়েছেন। একই সঙ্গে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গিয়েও ফিরতে পারছেন না অনেক বাংলাদেশি। আটকে থাকা বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘বিদেশে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। বিভিন্ন দেশের সরকার ও বিমান সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রথম পর্যায়ে কুয়েত থেকে ৩৫০ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪৪০ জন দেশে আসবেন। এরপর ওমান, কাতার ও লেবাননের অবৈধ শ্রমিকদের ফেরত আনার বিষয়ে কাজ করবে সরকার।’ মোমেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিজস্ব ব্যয়ে ফেরত পাঠাতে সম্মত হয়েছে, তারা বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করছে। সবাইকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেডিক্যাল চেকআপ করা হবে। এরপর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর দিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন এমন সাড়ে ৫ হাজারের বেশি লোকের কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের মেজর আবু সাঈদ বলেন, বিদেশ থেকে প্রায় দুই হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি চট্টগ্রামে আসবেন। তাদের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়ার জন্য নগরীর ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করা হয়েছে।
