১১০ টাকার আদা ৩৫০ টাকা

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২০, ২২:১০

আদার দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আমদানিকারক থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ীরা জড়িত। গতকাল সোমবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ডেলিভারি নেওয়া পর্যন্ত প্রতি কেজি আদার দাম ১১০ টাকা পড়লেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। জানা গেছে, এর পেছনে রয়েছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজি। বন্দর থেকে দেরিতে খালাস করে প্রায় ডবল দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে অনেক আমদানিকারকের বিরুদ্ধে। আর খুচরা ব্যবসায়ীরাও বেশি দামে আদা কিনে আরো অনেক বেশি লাভে ক্রেতাদের কাছে তা বিক্রি করছে।

কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট শুল্ক গ্রুপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত মার্চ মাসের ২৫ তারিখের আগে আদার আমদানি মূল্য যা ছিল ২৫ মার্চের পর থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত শুল্কায়ন হওয়া আদার মূল্য আরো কম ছিল। বর্তমানে বন্দরে থাকা এবং বন্দরে পৌঁছার অপেক্ষায় থাকা সব আমদানিকৃত আদার মূল্য প্রায় একই থাকবে। সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক দ্রুত কনটেইনার ডেলিভারি নেওয়ার জন্য কনটেইনার স্টোর রেন্ট মওকুফ করে দেয়। কিন্তু সেই সুযোগ নিয়ে আমদানিকারকরা কাস্টমসের শুল্কায়নের পরও বিশেষ করে ভোগ্যপণ্যবাহী কনটেইনার ডেলিভারি না নিয়ে বাজারমূল্য বৃদ্ধির অপেক্ষায় বন্দরে কনটেইনার রেখে দেয়। এতে করে বাজারে আদাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর আবার রেন্ট মওকুফের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

জানা যায়, গতকাল সোমবারও আদা আমদানিকারকরা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আদা ২০০ টাকা এবং এর বেশি দামে বিক্রি করে বলে জানা যায়। অথচ তাদের আমদানি মূল্য পড়েছে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা। আদা আমদানিকারক খাতুনগঞ্জের ফরহাদ ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী নূর হোসেন জানান, মার্চ মাসের শেষের দিকে তিনি বন্দর থেকে প্রতি কেজি ১২৮ টাকা দরে দুই কনটেইনার আদা বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, তার সর্বমোট খরচ পড়েছে ১১৪ টাকা। তিনি জানান, তার আনা কিছু আদা বন্দরে পৌঁছার অপেক্ষায় রয়েছে। ওই সব আদার মূল্যও প্রায় একই হবে। ঢাকার এফএম মেদী রয়েল ওভারসিজের মালিক মনিরুল আলম জানান, তিনি গত ৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দুই কনটেইনার আদা বিক্রি করেছেন কেজিপ্রতি ১১৮ টাকা দরে। ঢাকার মনু এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এক সপ্তাহ আগে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দুই কনটেইনার আদা বিক্রি করেছেন কেজিপ্রতি ১৫০ টাকা মূল্যে।

ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই চীনে করোনা ভাইরাসের অজুহাতে আদার মূল্য বাড়তে শুরু করে। চীনে করোনা শুরু হলেও তাদের রপ্তানি বন্ধ ছিল না। অথচ অসাধু আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা মিথ্যা অজুহাত তুলে আদার মূল্য বাড়িয়ে দেয়। আমদানিকারকদের সূত্রে জানা যায়, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যেসব আমদানিকারক চট্টগ্রাম বন্দরে আদার ডেলিভারি নিয়েছেন তারাই মূলত আদার মূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী। যদিও আমদানিকারকদের অনেকে আদার দাম বৃদ্ধির জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মতে আমদানিকারক, মধ্যস্বত্ত্বভোগী কিছু দালাল এবং আড়তদার বাজারে আদার মূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এপ্রিলের প্রথমদিকে আদার খুচরা মূল্য কেজিপ্রতি যেখানে ছিল ১২০-১৩০ টাকা ছিল বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়। গত দুই তিন সপ্তাহে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী শুধু আদা থেকেই কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামেরসহ ঢাকার কয়েক জন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী জড়িত। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, করোনা ভাইরাস ও মাহে রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যাতে কেউ অযৌক্তিকভাবে বাড়াতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের মনিটরিং জোরদার করতে হবে।