ফিরে দেখা ২০১৮

ফ্রান্স-রিয়ালের জয়জয়কার

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:৩৭

ধারণা করা হচ্ছিল, সময়ের দুই সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি- ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এটাই শেষ সুযোগ। এটা যে বিশ্বকাপের বছর, আর পরের বিশ্বকাপে দুই মহীরুহের বয়স দাঁড়াবে যথাক্রমে ৩৫ এবং ৩৭ এ! দু’জনেই রাশিয়ায় ফুটবলের বিশ্ব আসর থেকে ফিরেছেন শূন্য হাতে। ভাগ্যবিধাতার লিখনে এ বছর নতুনের আবাহনই লেখা ছিল!

শেষ শিরোপা জয়ের পর কেটে গেছে ১৮ বছর, আর শুধু বিশ্বকাপ হিসাব রাখলে ফরাসিদের অপেক্ষাটা ছিল ২০ বছরের। ১৯৯৮ সালে জিনেদিন জিদানের জাদুর ছোঁয়ায় ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সোনার হরিণটি ঘরে তুলেছিল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। এবারও দিদিয়ের দেশমই জেতালেন। তবে এবার ছিলেন গুরুর ভূমিকায়। ফ্রান্সকে এ বছর বিশ্বকাপ জিতিয়ে মারিও জাগালো এবং ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের পর ইতিহাসের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে খেলোয়াড় এবং কোচের ভূমিকায় বিশ্বকাপ জেতার কৃতিত্ব অর্জন করেন দেশম।    

দেশমের দলের শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে নাম ভূমিকায় ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে নামের এক তরুণ জাদুকর। আগের দুই মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকলেও পাদপ্রদীপের আলো থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন এই পিএসজি তারকা। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এসে দুর্দান্ত নৈপুণ্য এবার তাকে দিয়েছে তার প্রাপ্য স্বীকৃতি। ফুটবলের বিশ্ব আসরে চার গোল করার সুবাদে তার হাতে ওঠে বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মানের পুরস্কার। ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্যের ফলে বছর শেষে পেয়েছেন ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের স্বীকৃতিও। ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাগিয়ে নিয়েছেন বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘কোপা ট্রফি’।

তবে, বিশ্বকাপের বছর হিসেবে বছরটিকে যদি শুধু ফ্রান্সেরই বলে দেয়া হয় তবে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়ার প্রতি কিছুটা অবিচারই করা হবে। প্রতিযোগিতার আগে হিসেবের বাইরে থাকা ক্রোয়াটরাই ফেভারিট আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো পৌঁছে গেলো ফাইনালে! দলের এমন কীর্তির পেছনে আছে লুকা মদ্রিচ নামের এক জাদুকরের অবদান।

চূড়ান্ত লড়াইয়ে ফরাসী বিপ্লবের কাছে হার মানলেও পুরো প্রতিযোগিতায় দারুণ নৈপুণ্য বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি

এনে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারকে। জাতীয় দলের মতো ক্লাবেও ধারাবাহিক নৈপুণ্য ধরে রাখার কারণে তার হাতে উঠেছে ইউয়েফা বর্ষসেরা, ফিফা বর্ষসেরা এবং ব্যালন ডি অরের সম্মাননা।

ক্লাব ফুটবলে ’১৮ ছিল রিয়াল মাদ্রিদের। এ বছর টানা তৃতীয়বারের মতো ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করে কোচ জিনেদিন জিদানের দল। তবে শিরোপা জয়ের দিন দুয়েক পর থেকেই বিদায়ের সুর বেজে ওঠে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। এক মাসের ব্যবধানে দল ছেড়ে যান দলকে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের নায়ক এবং নেপথ্য নায়ক। জিদান ও রোনালদোর প্রস্থান বেশ ভালোভাবেই ভোগাচ্ছে রিয়ালকে। উয়েফা সুপার কাপে হার এবং চলতি লিগে তাদের অবস্থান তারই সাক্ষ্য দেয়।

এ বছর স্প্যানিশ ঘরোয়া ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করে বার্সেলোনা। চলে গিয়েছিল অমরত্বের খুব কাছেও। ২০ দল কাঠামোর লিগে প্রথমবারের মতো অপরাজিত শিরোপা অর্জন থেকে যখন মাত্র দুই ম্যাচ দূরে আর্নেস্তো ভালভার্দের দল, ঠিক তখনই পা ফসকায় তারা। লেভান্তের কাছে ৫-৪ গোলে হারে তারা। লিগে ৩৪ গোল করে ইউরোপসেরা গোলদাতার পুরস্কার ইউরোপিয়ান গোল্ডেন সু পঞ্চমবারের মতো জয় করেন লিওনেল মেসি।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে প্রথম দল হিসেবে ১০০ পয়েন্ট অর্জন করে লিগ পুনরুদ্ধার করে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। অন্য দিকে, লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বাজে পারফরম্যান্সের খেসারত দিয়ে বছরের শেষে এসে চাকরিচ্যুত হন হোসে মরিনহো। 

ইতালিয়ান সিরি আ এবং ফরাসি লিগ ওয়ানে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে জুভেন্তাস এবং পিএসজি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ক্লাবে ভেড়ানো জুভেন্তাস ’১৮-’১৯ মৌসুমের ১৮ ম্যাচ থেকে ১৬টিতেই জিতে ইতোমধ্যেই টানা অষ্টম শিরোপায় একহাত দিয়ে রেখেছে। পিছিয়ে নেই পিএসজিও, নেইমার-এমবাপেতে ভর করে শিরোপা রক্ষার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে তারা।