নতুন করোনা ভাইরাস মহামারি রূপ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে ‘ফ্রি ভিসায়’ কর্মরত অভিবাসী, অনিয়মিত অভিবাসী, খুদে ব্যবসায়ী, সেবা খাতে নিয়োজিত কর্মী এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ব্যাপকসংখ্যক অভিবাসী এখন কর্মহীন ও বেতনহীন। অন্য সময়ের তুলনায় গৃহকর্মীরা এখন একটু ভালো থাকলেও পুরুষ কর্মীদের পরিবারের মতো নারী কর্মীদের দেশে ফেলে যাওয়া সন্তানেরাও আজ রেমিট্যান্সের অভাবে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাই বিপদে থাকা অভিবাসী এবং তাদের পরিবারের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে দেশে অভিবাসন নিয়ে কর্মরত ১৬টি সংগঠন।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এক খোলা চিঠিতে এই আহবান জানিয়েছে তারা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলো হলো :রামরু, ইমা রিসার্চ ফাউন্ডেশন, এমজেএফ, আসক, ইপসা, বোয়াফ, রাইটস যশোর ও চেঞ্জ মেকারস।
খোলা চিঠিতে তারা লিখেছে, ইতিমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসীদের সেবা দেওয়ার জন্য অর্থ সরবরাহ করেছে এবং আরো ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু এক কোটি অভিবাসীর বিপদে পড়া অংশ ও তাদের পরিবারের জন্য আরো অনেক বড়ো তহবিল গঠন করা প্রয়োজন। শুধু অভিবাসীদের নিজস্ব টাকায় গঠিত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল থেকে নয়, সরকারের কোষাগার থেকে তাদের জন্য তহবিল নিশ্চিত করুন।
এছাড়া বেশ কিছু শ্রমগ্রহণকারী রাষ্ট্র অনিয়মিত অভিবাসীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, জরুরি অবস্থায় নিয়মিত-অনিয়মিত সব অভিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়া শ্রমগ্রহণকারী দেশের কর্তব্য। জাতিসংঘ, কলম্বো প্রসেস ও আবুধাবী ডায়ালগসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে এ বিষয়টি তুলে ধরার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।
করোনা উত্তর পরিবেশে যে অর্থনৈতিক মন্দার কথা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সেই সময় প্রচলিত খাতে শ্রমিক গ্রহণ কমে আসবে। ব্যাপকসংখ্যক অভিবাসী চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরবেন। এদের জন্যও চাই দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান প্রকল্প।
