করোনাকে যেভাবে হারালেন কানাডার এক দম্পতি

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ০০:২৬

কানাডায় এই মুহূর্তে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ১১ হাজার ৮৪৩ জন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলবাট্রার এডমিন্টনের ফয়সল-ফারহানা দম্পতি। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিজের বাসায় ঘরবন্দি থেকে, সাহসিকতার সঙ্গে সব নিয়ম মেনে একেবারে আগের মতো ফুরফুরে জীবনে ফিরে এসেছেন।

ইত্তেফাক প্রতিনিধির কাছে তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন এই দম্পতি। ফয়সল ফেরদৌস ও চৌধুরী ফারহানা৬ ফারুকী দুজনেই ফার্মাসিস্ট। ফয়সল বাংলাদেশ-কানাডা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আর উপস্থাপিকা ফারহানা এই সংগঠনের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক।

ফারহানা বলেন, ‘আমার স্বামী তার কাজের জায়গা, অর্থাত্ ফার্মেসি থেকে গত ২৩ মার্চ এক সহকর্মীর মাধ্যমে ভাইরাসের কবলে পড়েন। প্রথমে তার হালকা লক্ষণ দেখা যায়। যেমন মাথাব্যথা, হালকা জ্বর, সামান্য শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া। সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাকে আলাদা করে দিই। আমি ও আমাদের ১১ বছরের ছেলে আয়ান পৃথক হয়ে থাকি। আমাদের যোগাযোগ হতো টেলিফোনে। এই অবস্থায় ডাক্তারও টেলিফোনে চিকিত্সা ও পরামর্শ দিতে থাকেন। ফয়সল তা শতভাগ মেনে চলে এবং একপর্যায়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।’

ইতিমধ্যে ফারহানা নিজেও এই ভাইরাসের উপসর্গ টের পেয়ে চলে যান আইসোলেশনে। মাঝখানে ছেলে একা একা সবকিছু করত। ফয়সল বলেন, ‘আমি খুব আশাবাদী এবং সাহসী। ঐ সময় মানসিকভাবে দুর্বল হইনি। কারণ আমি একজন ফার্মাসিস্ট হিসেবে জানি আমার কী করতে হবে। কারণ আলবাট্রায় ফার্মাসিস্টরা রোগী দেখতে পারেন এবং প্রেসক্রাইপ্ট করতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘ঠান্ডা-হাঁচি-কাশি-ফ্লু থেকে শরীর মুক্ত রাখলে সহজে করোনা আক্রান্ত করতে পারবে না। আমার এক ভাই নিউ ইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত ছিল। আমি আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে এবং সঠিকভাবে কাউন্সিল করে তাকেও সুস্থ করেছি।’

এদিকে ফারহানা সুস্থ হয়ে গত ১৮ এপ্রিল তার করোনায় বন্দিজীবনের কথা ফেসবুকে তুলে ধরলে তা ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করে। সেই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন :‘আমি ১০ দিন আলাদা ঘরে থাকি। সেই দিনগুলিতে আমি আমার ছেলেকে দেখতে পাইনি। আমার স্বামী ততক্ষণে সুস্থ হয়ে উঠল এবং ছেলের যত্ন নিল। ভাগ্যক্রমে আমাদের ছেলে আয়ন সুস্থ আছে। এখনো তার  কোনো লক্ষণ  নেই।’

একজন ফার্মাসিস্ট ও করোনাক্রান্ত অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীর হার্টের সমস্যা এবং দুজনেরই ডায়াবেটিস রয়েছে। আমরা নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করে চলেছি এবং প্রতি ছয় ঘণ্টা বা যখনই আমরা জ্বর বা মাথাব্যথা অনুভব করেছি, তখন প্যারাসিটামল খেয়েছি। আমরা চিনি ছাড়া গরম জল ও আদা চা পান করেছি।  প্রতিদিন তিন-চারটি ভিটামিন সি ট্যাবলেট নিয়েছি। শ্বাসকষ্টের কিছু অনুশীলন করেছি। তবে কোভিড-১৯-এর জন্য আমরা কোনো অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করিনি।’

ফারহানা সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সেই দুঃসময়ে কমিউনিটির অনেকই বাসার সামনে খাবার-দাবার রেখে গেছেন। আমাদের ফার্মেসি ম্যানেজার ওষুধ,  স্ন্যাকস ও ভিটামিন দিয়ে গেছেন। আমি অভিভূত, আপ্লুত, গর্বিত ও কৃতজ্ঞ!’