মো. কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল জাহানাবাদ সেনানিবাস খুলনা
আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। তাই আমাদের সকলের উচিত শুদ্ধ বানানে লিখা ও শুদ্ধ উচ্চারণ চর্চা করা।
এ মুহূর্তে তোমরা সকলে ঘরে আছ যখন কোনোকিছু ভালো লাগবে না তখন ইউটিউবে আবৃত্তি শুনতে পারো। ভালো লাগবে উচ্চারণের চর্চাও হবে।
ষত্ব বিধান
নিয়ম ১ : ঋ,ঋ-কার,র-এর পরে মূর্ধন্য-ষ হয়।
যেমন : ঋষি,বৃষ,বৃষ্টি,বর্ষা,উত্কৃষ্ট,দৃষ্টি,সৃষ্টি ইত্যাদি।
নিয়ম ২ : অ,আ বাদে অন্য স্বরবর্ণ, ক এবং র বর্ণের পরের প্রত্যয়াদির দন্ত্য-স এর মূর্ধন্য-ষ হয়।
যেমন : ভবিষ্যত্,পরিষ্কার,মুমূর্ষু,চিকীর্ষা,চক্ষুষ্মান ইত্যাদি।
নিয়ম ৩ :‘অতি’, ‘অভি’, ‘প্রতি’-এর মতো এমন ই-কারান্ত উপসর্গ এবং ‘অনু’ আর ‘সু’-এর মতো উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কতকগুলো ধাতুর দন্ত্য-স এর মূর্ধন্য-ষ হয়।
যেমন : অতিষ্ঠ,অনুষ্ঠান,নিষেধ,অভিষেক,বিষণ্ন, সুষম,প্রতিষেধক,বিষম ইত্যাদি।
নিয়ম ৪ : ট-বর্গীয় বর্ণের সাথে মূর্ধন্য-ষ যুক্ত হয়।
যেমন : কষ্ট,নষ্ট,কাষ্ঠ,স্পষ্ট,ওষ্ঠ,দৃষ্টি,সৃষ্টি ইত্যাদি।
নিয়ম ৫ : সংস্কৃত ‘সাত্’ প্রত্যয়পযুক্ত পদে মূর্ধন্য-ষ হয় না।
যেমন : অগ্নিসাত্,ধূলিসাত্,ভূমিসাত্ ইত্যাদি।
নিয়ম ৬ : খাঁটি বাংলা ও বিদেশি শব্দে মূর্ধন্য-ষ হয় না।
যেমন : টেক্স,পুলিশ,জিনিস,মিসর,গ্রিস,স্টেশন, মুসাবিদা,পোশাক,মাস্টার ইত্যাদি।
নিয়ম ৭ : অঃ বা আঃ থাকলে তার পরে ক্, খ্, প্, ফ্ সন্ধিযুক্ত হলে বিসর্গ (ঃ) এর জায়গায় দন্ত্য-স হয়। যেমন : পুরঃ + কার = পুরস্কার, ভাঃ + কর = ভাস্কর, তিরঃ + কার = তিরস্কার, পরঃ + পর = পরস্পর, স্বতঃ + ফূর্ত = স্বতঃস্ফূর্ত ইত্যাদি।
নিয়ম ৮ : অঃ বা আঃ থাকলে তার পরে ক্, খ্, প্, ফ্ ছাড়াও ত থাকলেও স হতে পারে। যেমন : মনঃ + তাপ = মনস্তাপ, শিরঃ + ত্রাণ = শিরস্ত্রাণ ইত্যাদি।
নিয়ম ৯ : কতকগুলো শব্দ বিশেষ নিয়মে মূর্ধন্য-ষ হয়।
যেমন : প্রদোষ, ভাষা, রোষ, তোষণ ইত্যাদি।
নিয়ম ১০ : কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়।
যেমন : আষাঢ়,পাষাণ,ষোড়শ,ষড়ঋতু,রোষ,কোষ, ভাষণ,ভাষা,ঊষা,পৌষ,কলুষ,মানুষ,ঔষধ,ষড়যন্ত্র, ভূষণ,দ্বেষ ইত্যাদি।
