ইত্তেফাক রিপোর্ট
ইতিহাসে এই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম শূন্যের নিচে নেমে গেছে। তেল উত্তোলন করলেও সংরক্ষণাগারে রাখার জায়গা নেই। ফলে মে মাসের জন্য তেল কেনার গ্রাহক পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই মে মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গতকাল মাইনাস ৩৭ দশমিক ৬৩ ডলারে নেমে আসে। অর্থাত্, মে মাসে ক্রেতাকে প্রতি ব্যারেল তেলের সঙ্গে এই পরিমাণ অর্থও দিতে রাজি হয়েছে উত্পাদকেরা। চাহিদা না থাকা এবং উত্পাদন অব্যাহত থাকায় মে মাসেই তেল মজুতের আর জায়গা থাকবে না বলে আশঙ্কার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের ব্র্যান্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমেডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম গতকাল মঙ্গলবার কিছুটা বেড়ে ১ দশমিক ৩৭ ডলারে বিক্রি হয়। মে মাসে সরবরাহের জন্য তেল কেনাবেচার চুক্তি করার সময় মঙ্গলবারই শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই জুনে সরবরাহের জন্য এই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২১ দশমিক ৩৯ ডলারে ওঠে।
সিএনএসের সংবাদ অনুযায়ী, মার্কিন তেলের বাজারে এই ধসের খবরে বিশ্বের শেয়ারবাজারেও ধাক্কা লাগে। লন্ডনের এফটিএসসি ১০০ সূচক কমে যায় ১ দশমকি ৪ শতাংশ। জার্মানি ও ফ্রান্সের শেয়ারবাাজরে দর কমে যায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ। এদিকে এশিয়ার বড়ো শেয়ারবাজার জাপানের নিক্কি২২৫ সূচক কমে যায় ২ শতাংশ, চীনের সাংহাই কম্পেজিট সূচক কমে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। সারা বিশ্বে লকডাউনের ফলে চাহিদা কমে আসায় এক মাস ধরে তেল উত্তোলন কমানো নিয়ে বিতর্ক চলছে। মার্চের শেষে ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে অপরিশোধিত তেলের দাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আলোচনা শুরু হয় তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর মধ্যে। গত ১৩ এপ্রিল নানা আলোচনার পর ওপেক প্লাস ও তেল উত্পাদক মিত্রদেশগুলো উত্পাদন কমানোর সমঝোতায় পৌঁছায়। তারা জুন মাস থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলন কমানোর ব্যাপারে একমত হয়েছে। করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে লকডাউনের মধ্যে বিশ্বের বহু দেশের মানুষ এখন ঘরবন্দি থাকায় রাস্তাঘাট সব ফাঁকা, উড়োজাহাজগুলো বসে আছে, কারখানাগুলোও বন্ধ। ফলে গত তিন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৩০ শতাংশ কমেছে। এর ফলে প্রতিদিনই কোটি কোটি ব্যারেল তেল গুদামে জমছে। সব ধরনের তেল মজুতকেন্দ্র পরিপূর্ণ হয়ে আছে।
