চট্টগ্রামে ওয়াসার পানির ঘাটতি দৈনিক সাত কোটি লিটার

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ২১:২৫

উত্পাদন বৃদ্ধি ও রেশনিং করে সংকট নিরসনের চেষ্টা

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

করোনা ভাইরাসের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানির ব্যবহার বেড়ে গেছে। ফলে উত্পাদন চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় পানির ঘাটতি বেড়েছে। ওয়াসার এক সমীক্ষায় দেখা গেছে করোনার কারণে দৈনিক প্রায় ৭ কোটি লিটার পানি চাহিদা বেড়েছে। কয়েক দিন পর পবিত্র রমজান মাস শুরু হলে পানির চাহিদা আরো বাড়বে। তাই সৃষ্ট পানি সংকট নিরসনে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বন্ধ থাকা নলকূপ চালু, শোধনাগারগুলোতে উত্পাদন স্বাভাবিক রাখা ও রেশনিং করে পানির সংকটপূর্ণ এলাকায় সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। নগরীর প্রায় ৪০ লাখ বাসিন্দার জন্য পানির দৈনিক চাহিদার দরকার হয় ৪২ কোটি  লিটার। নগরীতে ওয়াসার বৈধ ৬৮ হাজার সংযোগ রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে পানির কিছু অতিরিক্ত  চাহিদা বেড়েছে। সাবান দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়ার কারণে পানির ব্যবহার বেড়েছে। যারা ঘরের বাইরে যাচ্ছে তাদের অনেকেই দৈনিক দুবার গোসল করা ও কাপড় অতিরিক্ত ধোয়া এবং মানুষ সার্বক্ষণিক ঘরে বসে থাকার কারণেও পানির ব্যবহার বেড়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, করোনার কারণে পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় দৈনিক প্রায় ৭ কোটি লিটার পানির চাহিদা বেড়েছে। পানির শোধনাগারগুলোতে পানি উত্পাদন স্বাভাবিক রাখা ও কয়েকটি নলকূপ চালু করে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটার পানির উত্পাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেখানে পাইপ লাইনে পানির প্রেশার বেশি আছে সেখানে প্রেশার কিছুটা কমিয়ে সংকটপূর্ণ এলাকার পানির সরবরাহ বাড়ানো হবে। আবার অনেক এলাকায় রেশনিং করে পানি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে।’ ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, পানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে ট্রান্সফোর্স গঠন করা হয়েছে। রমজানে বিভিন্ন বস্তি ও মসজিদে ৫০ মি.লি বোতলে ফ্রি পানি সরবরাহের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। করোনার কারণে বোতল তৈরির ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় চাহিদা অনুপাতে বোতল পাচ্ছি না। পানি শোধনাগারগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং পাম্প অপারেটরদের সার্বক্ষণিক অবস্থান ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।’