আরেকটি স্বাধীনতার অপেক্ষায়...

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২০, ০০:০৩

নাজমুল হোসেন

বিশ্ব জুড়ে প্রতিনিয়তই করোনার চোখ রাঙানি অব্যাহত রয়েছে। যার কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ইতিহাস বলছে, বিগত কয়েক দশকেও বিশ্ববাসী এমন ভয়ংকর মহামারির শিকার হয়নি। সংক্রমণ ও মৃত্যুর এসব বড়ো মিছিল কমিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিটি দেশের সরকার। সব দেশই করোনা মোকাবিলায় যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। স্বাধীনতার স্বাদ পেতে মরিয়া আজ বিশ্বের প্রতিটি দেশ। যদিও যুদ্ধে মোকাবিলা করার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট অস্ত্র কারো হাতে নেই। আবিষ্কৃত হয়নি এখনো কোনো অস্ত্র। তবে সচেতন থাকলে বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা শত ভাগ মেনে চললে অবশ্যই করোনা যুদ্ধে আমাদের জয়ী হওয়া সম্ভব। একমাত্র জনসচেতনতা, হোম কোয়ারেন্টাইন, লকডাউন, অবাধে চলাফেরা করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা বা স্বাস্থ্যবিধি না মানায় আজ আমরা এর খেসারত দিচ্ছি। টিভি চালু করলেই দেখা যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘর থেকে মানুষ বেরিয়ে আসছে নানান অজুহাতে। দরকার মানুষের থাকতেই পারে তবে অপ্রয়োজনেই ঘর থেকে বেশি বের হচ্ছে। আমরা নিজের, পরিবারের বা দেশের সুরক্ষার কথা ভাবছি না। করোনা মোকাবিলায় সরকারকে করছি না সহায়তা। তাই এখনই আমাদের সরকারি নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, হতে হবে আরো সচেতন। করোনা যুদ্ধে সরকারের শতভাগ আন্তরিকতা থাকলেও আমাদের নেই তেমন আন্তরিকতা, নেই গুরুত্ব। মনে রাখতে হবে, করোনা মোকাবিলায় আমাদেরও যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। চিকিত্সার জন্য সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি আমাদের আছে বিশ্বমানের অসংখ্য বড়ো প্রাইভেট হাসপাতাল, ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য ব্যবস্থা। তবে এই সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রয়োজন আন্তরিকতা, সদিচ্ছা, মানবিকতা, একাগ্রতা ও সততা। আর এসবের ঘাটতি থাকলে সক্ষমতা অক্ষমতায় পরিণত হবে। নিঃসন্দেহে দেশ করোনার কাছে পরাধীন হয়ে যাবে। আমরা মুখোমুখি হব কঠিন ও অস্তিত্ব সংকটাপন্ন পরিস্থিতির। এক দিকে করোনার তাণ্ডব আর অন্য দিকে এক শ্রেণির মানুষের খাবার সংকট। দেখা গেছে কিছু প্রাইভেট ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি, পেশাদার ক্রিকেটাররা, একক ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ত্রাণসহ নানা রকম সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। অন্য দিকে সরকারি ত্রাণ বিতরণকারীরা দেশ জুড়ে অনিয়মের তাণ্ডব চালাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে চেয়ারম্যান-মেম্বার বা নামধারী কিছু নেতার চাল চুরির হিড়িক। দেশের দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে তারা যেন সুযোগসন্ধানী হয়ে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। বিবেক, মনুষ্যত্ববোধ ও মানবতা যেন ভূলুণ্ঠিত! প্রতিবাদ করলেও এই প্রভাবশালীরা চড়াও হচ্ছেন সাধারণ মানুষের ওপর, সাংবাদিকদের ওপর। বিশ্বের কোথাও এমন ঘৃণ্য ও অমানবিক চিত্র দেখা যায়নি। একাত্তরেও রাজাকার শ্রেণির কিছু লোক স্বাধীনতা অর্জনে বাধা দিয়েছিল। বলা চলে এরাও এই সময়ের আরেক শ্রেণির রাজাকার। নিজের টাকায় তো গরিবদের খাওয়াবেই না, উলটো সরকারের দেওয়া খাবারটুকুও কেড়ে নিচ্ছে। সরকারকে করোনা মোকাবিলায় ফেলতে চায় বেকায়দায়। তবে যে কোনো জাতির চেয়ে বাঙালির মনোবল অনেক বেশি। আমাদেরকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, করোনাও পারবে না, পারবে না এই গুটি কয়েক চোরের দলও। আমাদের বিচক্ষণ প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই যথাসময়ে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। বর্তমান সরকার পেরেছে সব প্রতিকূলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জঞ্জাল সাফ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। আজও পারবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে করোনার প্রভাব কাটিয়ে এগিয়ে যেতে। তাই সরকারের সঙ্গে এই যুদ্ধে সার্বিকভাবে আমাদের সহায়তাপূর্বক শামিল থাকতে হবে। আসুন, আমরা সবাই একযোগে করোনার বিরুদ্ধে জয়ী হই। তৃপ্ত হই আরো একটি স্বাধীনতার স্বাদে।

n লেখক :প্রকৌশলী