রুটির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সুদানে সরকার বিরোধী আন্দোলন অব্যাহত আছে। যদিও দেশটি বর্তমানে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। এদিকে শুক্রবার বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নাইলের পশ্চিম তীরের ওমদুরম্যান থেকে বিরোধী দল সুদানি কংগ্রেস পার্টির প্রধান ওমর এল-ডিগিরকে গ্রেফতার করে। এদিকে শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। যদিও ওই সময় বিরোধীরা আরও বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছিল।
সুদানে রুটির দাম ছিল দুই সেন্ট। কিন্তু দেশটির সরকার এর দাম বৃদ্ধি করে ছয় সেন্ট করে। এর জের ধরে গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে রুটির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সুদানের খার্তুমসহ বেশির ভাগ অঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধরা। পরে এ বিক্ষোভটি সরকার বিরোধী রূপ নেয়। ক্রমেই এ বিক্ষোভটি সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ থেকে ১৯৮৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এখন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা রাষ্ট্রপতি ওমর আল-বাশিরের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। সরকার জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা কর্মী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ শুক্রবার এই বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় নিহতের ঘটনা তদন্তের জন্য সুদান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। অপরদিকে সুদানি কংগ্রেস পার্টির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত তাদের দলের প্রধানকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানী খার্তুম ও নীলনদ তীরবর্তী শহর ওমডুরমানসহ বেশ কয়েকটি শহরে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মুসুল্লিরা সরকার বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। সুদান পুলিশ এ সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীরা খার্তুমের কোনো কোনো এলাকায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বিরোধী দলীয় সংগঠনগুলো আগামী কয়েক দিন আরও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। এর সমর্থনে এই বিক্ষোভ বের করা হয়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ওমডুরমানে প্রধান বিরোধী দল ন্যাশনাল উম্মা পার্টির একটি মসজিদ থেকে বেরিয়ে মুসুল্লিরা ‘মুক্তি, শান্তি, ন্যায়বিচার’ বলে স্লোগান দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা বিক্ষোভ শুরু করার পরপরই দাঙ্গা পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সুদানি কমিউনিস্ট পার্টি এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে বিরোধী দলগুলো এক বৈঠকে সামনের দিনগুলোতে ‘আরও বিক্ষোভের’ ব্যাপারে একমত হয়েছে। এদিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন বিরোধী দলীয় সদস্য, লেখক ও সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদানের থেকে ভাগ হওয়া তেল সমৃদ্ধ এ দেশটির অর্থনীতি সংকটাপন্ন করে তুলেছে। এছাড়া দেশটির সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ করছে।
