করোনা ভাইরাসে সংকটাপন্ন মানুষের অস্তিত্ব। তবে এর প্রভাব থেকে রক্ষা পায়নি কুকুর-বিড়ালের মতো অবলা প্রাণীগুলোও। বিশেষ করে অলিগলিতে থাকা বেওয়ারিশ এবং ছিন্নমূল এ প্রাণীগুলো ভুগছে খাদ্য সংকটে। তারা হোটেলের উচ্ছিষ্ট, পচা খাবার খেয়েই দিব্যি জীবন চালিয়ে নেয়। কিন্তু লকডাউনে দেশের সমস্ত হোটেল ও বাণিজ্যিক দোকানপাট বন্ধ। এতে চরম বিপাকে পড়েছে অবলা এই প্রাণীকুল। মানুষ তো চাইতে পারে, একটা উপায় বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু এই জীবগুলোর কী উপায়? খিদে মানে না ভাইরাসের সাতকাহন। তাই তো ক্ষুধায় ক্লান্ত শরীর টেনে নিয়ে পথে পথে ঘুরছে, যদি কোথাও সামান্য খাবার মেলে। না পেলে একটা সময় শুয়ে থাকছে পথের ধারে। এই মুহূর্তে আমাদের ছোটো ছোটো মানবিক উদ্যোগগুলোই বদলে দিতে পারে এই সমাজ, এই দেশ। বাঁচিয়ে দিতে পারে অসহায় প্রাণীগুলোর জীবন। প্রতিদিন বাড়িতে নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবারগুলোর সঙ্গে আর একটু খাবার যদি বাড়ির সামনে বা ডাষ্টবিনের পাশে রেখে দেওয়া যায়, তবে রাস্তার কুকুর-বেড়াল-কাক না খেয়ে মরবে না। করোনার দিনে মানুষের প্রতি খেয়াল রাখা যেমন আমাদের দায়িত্ব, তেমনি দায়িত্ব চারপাশের জীবের প্রতি খেয়াল রাখা। তবেই না আমরা বলতে পারব—আমরাই সৃষ্টির সেরা।
মো. রাশিদুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
