ফসলি জমিতে ইটভাটা!

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২০, ০০:০৬

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে শতাধিক একর ফসলি জমির পাশে ইটভাটা চালু হওয়ায় শতাধিক কৃষক জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করার পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি! ফসলি জমির পাশে ইটভাটা নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর, খোয়াইশ, গলিয়ারা, কমলপুর, দক্ষিণ আনন্দপুর গ্রামের তিন ফসলি জমির পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে ইটভাটাটি। বংশ পরম্পরায় এখানকার মানুষ পুরো বছর ধরে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উত্পাদন করে আসছে। তিন ফসলি জমির উত্পাদিত ধানেই এখানকার কৃষক পরিবারগুলো জীবিকা নির্বাহ করে আসছে যুগ যুগ ধরে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, নারকেল ও পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ। ইটভাটার ধোঁয়ায় ধানের পাশাপাশি ফলের উত্পাদন কমছে। এছাড়াও গো-খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন জমির মালিকরা। এদিকে ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগের পর ইটভাটার মালিক পক্ষের লোকজন জমির মালিকদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

অপেক্ষাকৃত অনুর্বর বা পরিত্যক্ত জমিতে ইটভাটা নির্মাণের নির্দেশনার বাইরে কিভাবে তিন ফসলি জমির চারপাশ জুড়ে ইটভাটা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হলো, তা কারোই বোধগম্য নয়। অথচ একটি ইটভাটা চালু করতে প্রথমেই কর্তৃপক্ষীয় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়ে। যা হোক, কৃষিজমি রক্ষায় উল্লিখিত ইটভাটা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে সবার প্রত্যাশা।

মামশাদ কবীর

কান্দিরপাড়, কুমিল্লা