খাবার ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম পাচ্ছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৭

 ‘করোনা রুখতে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশে’—এই নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে। কয়েক বন্ধু মিলে গ্রুপটি খুলেছেন। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করছেন তারা। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এ সময়ে তাদের উদ্যোগে সুবিধা পেয়েছেন সহস্রাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

ফেসবুক গ্রুপটির সহপ্রতিষ্ঠাতা তানভীর হোসেন জানান, কেবল গৃহস্থালি থেকে রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য উত্পাদন হয়। আর এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জড়িত আছেন প্রায় ২১ হাজারের বেশি কর্মী, যার মধ্যে মাত্র ৭ হাজার কর্মী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত। বাকিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সামাজিক সংগঠনের হয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সংকটময় এ পরিস্থিতিতে মানুষ যখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে যে যার বাসায় অবস্থান করছেন, তখন এসব পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রতিদিন বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করছেন। তারা কোনোভাবেই জানেন না কোন বাসায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত লোক রয়েছে। সে জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঝুঁকিতে রয়েছেন এসব পরিচ্ছন্নতাকর্মী। কারণ, আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা খালি হাতে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য আলাদা করার কাজ করেন, সে জন্য তাদের সংক্রমণের ঝুঁকিটাও বেশি। শুধু তাই নয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হয়ে উঠতে পারেন করোনা ভাইরাসের বাহকও। তাদের জীবনের নিরাপত্তা যেমন জরুরি, তেমনই তাদের নিরাপদ করার মাধ্যমে সমাজের বড় অংশকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। আমরা তাদের নিরাপদ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ফেসবুকের মাধ্যমে অনুদান সংগ্রহ করে এই গ্রুপের সদস্যরা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবন বাঁচাতে তাদের জন্য নিরাপত্তা পোশাক, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, গামবুট, সাবান, পরিচ্ছন্নতা উপকরণ ও খাদ্য সরবরাহ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সচেতন করে তুলছেন। করোনা সংকটের এই সময়ে এ ধরনের সহযোগিতা পেয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও সন্তোষ প্রকাশ করছেন। মিরপুর এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী বজলু মিয়া জানান, গত ২০ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন, এবারই প্রথম নিরাপত্তা সরঞ্জাম পেলেন। তাদের জন্য নেওয়া এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে নগরবাসী ও প্রবাসীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ উদ্যোগে অংশ নিতে এখন অনেকেই এগিয়ে আসছেন।

গ্রুপটির সহপ্রতিষ্ঠাতা কাওসার মাহমুদ বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকার অধিকার রয়েছে। যেহেতু আমরা গৃহস্থালি বর্জ্য, হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণ বন্ধ করতে পারছি না, সেহেতু আমাদের এই মানুষগুলোর জীবনের নিরাপত্তার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের এটা দেখে শিক্ষামন্ত্রী চাঁদপুরে ১৮০ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মধ্যে এই সরঞ্জাম বিতরণ করেছেন। সোমবার আমাদের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ হাজার পার হলো। এর ফলে অন্তত ৫ লাখ মানুষ সুরক্ষার মধ্যে এলেন। যে কেউ চাইলে নিজের বাড়ির পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে এই সুবিধার মধ্যে আনতে পারেন। আমরাই তাকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করব, তখন আপনাকে এর ব্যবহার নিশ্চিতে মনিটর করতে হবে।