রাশিয়া একেবারে নতুন ধরনের এক হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ভাবন করেছে। যেটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সামরিক শক্তির ভারসাম্য পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাশিয়ার এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের নাম আভনগার্ড হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি চলে শব্দের চেয়ে ২০ গুণ বেশি গতিতে। রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এটি বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে গিয়ে হামলা করতে সক্ষম এবং একে ঠেকানোর মতো প্রযুক্তি এখনো পর্যন্ত কারও হাতে নেই। খবর বিবিসি বাংলা
গত বুধবার রাশিয়া এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করে পরীক্ষামূলক-ভাবে। রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বের উরাল পর্বতমালা থেকে এটি উেক্ষপণ করা হয়। এরপর এটি গিয়ে আঘাত করে ছয় হাজার কিলোমিটার দূরে দূরপ্রাচ্যের কানচাকায়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আভনগার্ড হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উেক্ষপণকে তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং তার দেশের জন্য এক বিরাট ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পুরোপুরি সফল হয়েছে।
ব্রিটিশ-আমেরিকান সিকিউরিটি ইনফরমেশন কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পল ইংগ্রাম বলেছেন, এখন যে ধরনের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রচলিত, সেগুলো ছোঁড়া হয় রকেটের মতো। ফলে একবার উেক্ষপণ করার পর এর ট্রাজেক্টরি বা সম্ভাব্য গতিপথ মোটামুটি অনুমান করা যায়। শত্রুপক্ষ তখন সে অনুযায়ী তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা করতে পারে।
ইংগ্রাম আরো বলেন, কিন্তু হাইপার-সোনিক মিসাইলের প্রযুক্তি একেবারেই ভিন্ন ধরনের। এটি উেক্ষপণের পর খুব দ্রুত উপরে উঠে যায়। তারপর আবার দ্রুত নেমে আসে। এরপর আনুভূমিকভাবে এটি বায়ুমণ্ডলের মধ্যেই চলতে থাকে। চলমান অবস্থাতেও এর গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। তার মানে হচ্ছে এটি কোনো দিকে যাবে এটা আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়। ফলে এটি মাঝপথে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।
প্রেসিডেন্ট পুতিন এই সফল পরীক্ষার পর এতটাই উচ্ছ্বসিত যে— তিনি রুশ ব্যবসায়ীদের নাকি বলেছেন, এখন আর রাশিয়াকে হুমকি দেওয়ার মতো কোনো শক্তি বিশ্বে নেই। ব্রিটিশ-আমেরিকান সিকিউরিটি ইনফরমেশন কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পল ইংগ্রাম বলছেন, রাশিয়ার দাবি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখন পুরোপুরি সেকেলে অস্ত্রে পরিণত হলো।
