তেলের দামে ধসের সুযোগে মজুত বাড়াচ্ছে বিপিসি

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৯

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে পণ্যটির দামও। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে তেলের মজুত বাড়াতে চায় সরকার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কেনার পরিমাণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি তেল মজুতাগারগুলোর (ট্যাংক) বিদ্যমান ধারণক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের বাজারে ধস নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত সোমবার তা শূন্যের নিচে বা নেতিবাচক সূচকে চলে গেছে। উত্পাদকেরা তেল কেনার জন্য উলটা ক্রেতাদের অর্থ দিচ্ছেন। তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজার। ১৯৮৩ সালের পর এই প্রথম এমন চ্যালেঞ্জে পড়েছে তেল উত্পাদক দেশ-কোম্পানিগুলো।

এ অবস্থায় তেলের বড়ো ক্রেতাদেশ চীন এবং ভারত তেলের মজুত যতটুকু সম্ভব বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশও একই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) অতিরিক্ত ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। অতিরিক্ত তেল মজুতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ট্যাংক ব্যবহার করতে চায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। এ জন্য ইতিমধ্যে আটটি বেসরকারি কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে বিপিসি। তবে মাত্র একটি কোম্পানি- ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল লিমিটেড (ইউটিটিএল) বিপিসির আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। এর ফলে আমদানি পর্যায়ে তেলের দাম আরো কমবে। যদিও বিশ্ববাজারে তেলের দামের বড়ো দরপতনেও দেশে তেলের দাম কমেনি। এর সুবিধা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইউটিটিএলর স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিপিসি। সক্ষমতাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করে তারা আগামী বৃহস্পতিবার বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন।  এ প্রসঙ্গে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান বলেন, বিশ্ববাজার পরিস্থিতিতে যতটুকু সক্ষমতা আছে ততটুকু তেল আমরা সংগ্রহ ও মজুত করতে চাই। ইউটিটিএলর মজুতাগারে ৮০ হাজার টনের মতো ডিজেল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া লাইটারেজ জাহাজগুলোর সক্ষমতাও তেল মজুতে ব্যবহার করা হবে।

সোমবার বিবিসি, ব্লুমবার্গ, আলজাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেলের চাহিদা কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংরক্ষণাগারগুলো অতিরিক্ত তেলের চাপ আর নিতে পারছে না। উত্পাদকদের ট্যাংকগুলো প্রায় উপচে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে এই তেল সরাতে চাইছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম কমে প্রতি ব্যারেল (১৫৯ লিটার) হয়েছে মাইনাস ৩৭ দশমিক ৬৩ ডলার।

বিশ্ব তেল বাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত সপ্তাহে উত্পাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওপেক প্লাস ও তেল উত্পাদক মিত্রদেশগুলো উত্পাদন কমানোর ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছায়। দৈনিক ৯৭ লাখ ব্যারেল তেল উত্পাদন কমানোর ব্যাপারে একমত হয়েছে শীর্ষ তেল উত্পাদক ও রপ্তানিকারকদের এই জোট। এর মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেল উত্পাদন ১০ শতাংশ কমবে।

বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, গত মাসে প্রতি ব্যারেল তেল ৫৬ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হয়। এখন সে দাম আরো কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশে বেশি তেল মজুতের স্থাপনা নেই। তাই বিপিসি চাইলেও অনেক মজুত করা সম্ভব না। এর পরও ছোটো ছোটো সুযোগগুলোও কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। যেমন—সারাদেশে যে তেলের পাম্পগুলো আছে সেগুলোতেও অল্প কিছু তেল মজুত রাখা যেতে যারে।

সরকারি মজুতাগারগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা তেলের ডিপোগুলোর সক্ষমতা ১৩ লাখ টন। এর মাধ্যমে চাহিদা কম বৃদ্ধি বিবেচনায় দেশের দেড়-দুই মাসের তেলের চাহিদা পূরণ করা যাবে। করোনা ভাইরাসের কারণে শাটডাউনের আগে দেশে দৈনিক তেলের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার টন। এখন সেটি কমে হয়েছে ৬ হাজার টন।