সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সোমবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল বা বাড়িতে চিকিত্সাধীন ছিলেন এক লাখ ৮ হাজার ২৩৭ জন। যা আগের দিনের তুলনায় ২০ জন কম। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই পার্থক্য খুব সামান্য হলেও এটা খুবই ইতিবাচক অগ্রগতি। এতদিন দফায় দফায় সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকা দেশটিতে এটিই বা কম কিসে।
ইতালির লকডাউন আগামী ৩ মে পর্যন্ত চলবে। কিন্তু এরইমধ্যে কিছু কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। অপরদিকে, স্পেনেও ধীরে ধীরে কমতির দিকে যাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ১৯ এপ্রিল আক্রান্তের সংখ্যা সেখানে ছিল ৪ হাজারের বেশি। কিন্তু পরের দিন তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৫শ’ তে। তাই একেও ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে দেশটি। অবশ্য গত কয়েকদিন ধরেই স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা পড়তির দিকে। ইতালিতেও সেই ধারা দেখা যাচ্ছে।
তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি কিভাবে নিরাপদে কার্যকর করা যায় তা দেখছে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ। স্পেন এবং যুক্তরাষ্ট্রর পর ইতালিতে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস আক্রান্ত মানুষ রয়েছে। ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২৪ হাজার মানুষ মারা গেছে। স্পেনে ২১ হাজার। বাড়িতে কিংবা কেয়ার হোমে মারা যাচ্ছেন তাদের হিসাব এই সংখ্যার সাথে সংযুক্ত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আদৌ জানা যায়নি কিংবা যাবে না।
এদিকে, গতকাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ২৫ লাখের বেশি। আর মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজার। গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের দিক দিয়ে সবচে বেশি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে এই সময়ে ২৪ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ২ হাজার মানুষ মারা যায়। মোট মারা গেছে ৪২ হাজার ৫০০ জন। আর ফ্রান্স এবং জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং ১ লাখ ৪৭ হাজার।
আমাদের প্রতিবেশী ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজারে এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০৩। এছাড়া ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার। পাকিস্তানে এখনো পর্যন্ত ৯ হাজার জনের আক্রান্ত হবার তথ্য পাওয়া গেছে এবং মোট মারা গেছে ১৯২ জন।
বিপর্যয় এখনো বাকি: চরম বিপর্যয় আসতে এখনও বাকি বলে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশগুলোতে গত কয়েকদিনে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে আসায় যখন বিভিন্ন দেশ অবরুদ্ধ অবস্থা শিথিল করতে শুরু করেছে, তখন এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্ব সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসাস। তিনি সোমবার জেনিভায় সংস্থার সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, সবচেয়ে খারাপ অবস্থার এখনও বাকি। আসুন একসঙ্গে সেই ট্রাজেডি ঠেকাই। এটা এমন একটা ভাইরাস, যা এখনও মানুষ বুঝতে পারছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘যারা লকডাউন শিথিল করছেন, তাদের আমরা আগেই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমরা এখনও বলছি, বিধি-নিষেধ শিথিল করে কোনো দেশই এই মহামারী থামাতে পারবে না।’
হিমশিম খাচ্ছে সিঙ্গাপুর: প্রথম দিকে করোনা সংক্রমণ রোধে ভালোই সাফল্য দেখিয়েছিল সিঙ্গাপুর। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। জানুয়ারি মাসে সিঙ্গাপুরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এপ্রিলে এসে নতুন রোগী শনাক্তে গত চার মাসের রেকর্ড ভেঙেছে দেশটি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪২৬ জন নতুন শনাক্ত হয় দেশটিতে। জানুয়ারি সংক্রমণ শুরুর পর একদিনে এটাই সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা ১৬ জন। বাকি আক্রান্তরা দেশটিতে কাজ করা বিদেশি শ্রমিক, যারা বিভিন্ন ডরমেটরিতে থাকেন। দেশটিতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের।
