‘পেটের খিদ্যা তো আর করোনা মানে না বাহে’

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৮

 ‘পুলিশের মাইকিং শুনচি। বাড়ির বাইরোত যাওয়া যায় না। বাইর হলে করোনা হবে। মানুষ মরবে। কিনতো না আসি কী করমু। পেটের খিদ্যা তো আর করোনা মানে না বাহে। তাই হাটোত চাল-ডাল কিনব্যার আচ্চি।’

গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট বাজারে আসা আজিজার উদ্দিন নিজের ভাষায় এভাবেই কথাগুলো বললেন। বাজারটি উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত। পেশায় দিনমজুর আজিজার উদ্দিনের বাড়ি ইউনিয়নের হাছানপাড়া গ্রামে। একই বাজারে আসা ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রামের রিকশাচালক আছির মিয়া বললেন, ‘করোনার ভয় করি নাব (লাভ) কী? এ্যাকসা (রিকশা) চলেয়া পাঁচ জনের সংসার চালাই। একন করোনার জন্নে এ্যাকসা (রিকশা) চালান বনদো। কিনতো খাওয়া তো আর বনদো করা যায় না। আচকে মানষের কাচে ৩০০ ট্যাকা দ্যানা করি বাজারোত আচ্চি।’

ধাপেরহাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেউ লকডাউন মানছে না। লোকজন গাদাগাদি করে কেনাকাটা করছে। দোকানি ও ক্রেতা কারো মুখে মাস্ক নেই। বাজারের অবস্থা দেখলে মনে হয় যেন ক্রেতা-বিক্রেতার মিলনমেলা চলছে। চায়ের দোকানে মানুষ কাছাকাছি থেকে গল্পগুজব করছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই হাটে বেচাকেনা চলে।

ধাপেরহাট বাজারে আসা বড়ো ছত্রগাছা গ্রামের স্কুলশিক্ষক সফিজল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামগঞ্জের মানুষ বিষয়টির কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারা অবাধে হাট-বাজারে যাচ্ছে। ফলে আমরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছি। কেবল শিক্ষিত লোকজন সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে।’ একই গ্রামের সংস্কৃতিকর্মী বুলবুল হোসেন বলেন, ‘সাধারণ ছুটিতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় কর্মরত অনেক লোক ধাপেরহাটে নিজের বাড়ি ফিরে এসেছেন। তারা বাড়িতে থাকছেন না। হাট-বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ কারণে করোনার ঝুঁকি বেড়েছে।’

ধাপেরহাটের পার্শ্ববর্তী নিজপাড়া গ্রামের চাকরিজীবী ফয়জুল ইসলাম বলেন, শহরে সরকারের নির্দেশনা মানলেও গ্রামের কেউ মানছে না। প্রশাসনের লোকজন প্রতিদিন এসে ধাপেরহাট বাজার ফাঁকা করে দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পর আবারও বাজার জমজমাট হয়ে উঠছে।

সাদুল্লাপুর থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, প্রতিদিন স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। ধাপেরহাটেও পিকেটিং করা হচ্ছে। তার পরও মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে। অবাধে হাট-বাজারে যাচ্ছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সাহরিয়া খান জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিদিন মাইকিং করে দোকানপাট বন্ধ রাখা হচ্ছে। সেগুলো কেউই মানছে না।

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, সারা জেলায় ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টহল চলছে। প্রয়োজনে এই টহল আরো বাড়ানো হবে।