‘এই যে আমার মুখে যে মাস্ক দেখছেন তার দাম ৩০ টাকা। এই মাস্ক নিজের টাকায় কিনেছি। আমার মতো অনেক কনস্টেবল নিজের টাকায় মাস্ক কিনে করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডিউটি করছেন।’ রাজধানীর কাওরান বাজারে সার্ক ফোয়ারা মোড়ে দায়িত্ব পালনের সময় এক নিশ্বাসে এভাবেই বলছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একজন কনস্টেবল। কোনো রকম ভনিতা ছাড়াই এই কনস্টেবল বলেন, ফার্মগেটে ফুটপাত থেকে তিনি মাস্কটি কিনেছেন। এই ধরনের সাধারণ মাস্ক পরে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে আমরা সাধারণ মানুষের সেবা দিচ্ছি। তবে ভয় পাই না। এভাবেই দেশের সেবা করে যাব।
পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে পুলিশের ৬৫ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের ৩০ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় বর্তমানে ৬৩৩ জন পুলিশ সদস্যকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
গত কয়েক দিনে সরেজমিনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা পুলিশ কনস্টেবলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাস্ক সংগ্রহ করা ছাড়া করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করার কোনো কার্যকরী সরঞ্জাম নেই তাদের। বিশেষ করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস ও সার্জিক্যাল মাস্ক তাদেরকে সরবরাহ করা হয়নি। যদিও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পুলিশকে বিপুল পরিমাণ মাস্ক দেওয়া হয়েছে। এরপরও মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কনস্টেবলদের মাস্ক কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে পুলিশের সদস্য সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজার। এর মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার কনস্টেবল। এর মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা পর্যায়ের সদস্যদের বেশির ভাগ বাসায় অবস্থান করলেও বেশির ভাগ পুলিশ কনস্টেবল অবস্থান করেন জেলা পুলিশ লাইন্সে। করোনা ঠেকাতে চিকিত্সকদের পরই সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকায় রয়েছে পুলিশ। সারাদেশে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশ সদস্যরা ‘অসাবধানতাবশত’ সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে এসে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে। কখনো পালিয়ে থাকা করোনা রোগীকে ধরে হাসপাতালে পাঠানো, ভবন ও এলাকা লকডাউন করা এবং ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষাসামগ্রী না থাকায় সংক্রমিত হচ্ছেন তারা।
এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, সারাদেশে যেসব পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশির ভাগ মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের চিকিত্সা চলছে। আমরা মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সাধ্যমতো সুরক্ষা সরঞ্জামাদি দেওয়ার চেষ্টা করছি।
