রাণীনগর উপজেলায় জমি আছে ঘর নাই এই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার অসহায় অতিদরিদ্র তিনশ’ ৮৫টি পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে খুশি। কেউ কেউ অন্যের বাড়ির বারান্দায় আবার কেউ কেউ পরিবার নিয়ে অন্যের জমিতে কুটির ঘর তৈরি করে বসবাস করছিলো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দয়ায় উপজেলার প্রায় চারশ’ পরিবার এখন উন্নতমানের ঘরে বসবাস করতে পারছেন। বর্তমানে এই প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ শেষের দিকে বলে জানা গেছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই প্রকল্পের সবগুলো ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই অনেকে সেই ঘরে বসবাস করাও শুরু করেছে।
সূত্রে জানা, ‘জমি আছে ঘর নেই’ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিলের অর্থায়নে যেসব পরিবারের বসতবাড়ি করার মত জমি আছে। কিন্তু ঘর তৈরি করার মত আর্থিক সামর্থ্য নেই এমন ৩৮৫টি পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের কাজে টিন, ইট, খোয়া, কাঠ, বালু, রড, সিমেন্টসহ নির্মাণ কাজে ডিজাইন মোতাবেক সব উন্নতমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এই প্রকল্পের কাজ সরকারি নিয়ম অনুয়াযী শতভাগ সঠিকভাবে করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাণীনগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নের অসহায় অতিদরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ইউনিয়নগুলোতে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নে ৬৫টি, কাশিমপুর ইউনিয়নে ৭৯টি, কালিগ্রাম ইউনিয়নে ৯৬টি, একডালা ইউনিয়নে ৫৯টি ও বড়গাছা ইউনিয়নে ৮৬টি ঘর বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
সদর ইউনিয়নের খট্টেশরগ্রামের মোছাঃ রহিমা বেওয়া বলেন, আমাদের জায়গা ছিল। কিন্তু ঘর করার মত কোনো আর্থিক অবস্থা ছিল না। এখন বিনা খরচে সরকারের কাছ থেকে ঘর পেয়ে আমি খুবই খুশি। কাশিমপুর ইউপি’র বাহাদুরপুর গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই। নিজের একখণ্ড জমি ছিলো। কিন্তু নিজেদের পেট চালাবো না ঘর বানাবো। সেই জায়গায় সরকার একটি ঘর তৈরি করে দিলো। আমি সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, সরকারি নিয়ম অনুসারে ঘর তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। যেসব ঘর নির্মাণ শেষ হয়ে গেছে সেগুলোতে মানুষ বসবাস করাও শুরু করেছে। আশা করছি আর কিছুদিনের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে গেলে আমরা সবগুলো ঘর হস্তান্তর করতে পারবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিজ তহবিল থেকে দেশব্যাপী যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
