ঠাকুরগাঁওয়ে পলাতক করোনা পজিটিভ নারী পঞ্চগড়ে উদ্ধার

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২০, ২০:৪৮

রংপুর ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে প্রেরণ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের করোনা পজিটিভ এক নারীকে উদ্ধার করে রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঠাকুরগাঁও থেকে পলাতক ঐ রোগীকে গত মঙ্গলবার রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা করোনা পজিটিভ ঐ নারী (২২) গোপনে চিকিত্সা নিতে এসে পঞ্চগড়ে ধরা পড়েন। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের টিকিয়াপাড়া এলাকায়। গত সোমবার স্বামীকে নিয়ে ঐ নারী পঞ্চগড়ে তার বাবার বাড়ি (পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট এলাকায়) চলে আসেন। এখানে এসে তারা বিভিন্ন ক্লিনিক, চিকিত্সক, নার্সসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে ঐ রোগীর করোনা পজিটিভ ফলাফল আসায় তার বাসায় গিয়ে দেখা যায় তিনি বাসায় নেই।

পরে মোবাইল প্রযুক্তি মাধ্যমে তার অবস্থান নির্ণয় করে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করে। পরে ঐ রোগীকে কনফাইনড (নিয়ন্ত্রণ) করে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঐ রোগীর স্বামী জানান, তার স্ত্রী সাড়ে তিন মাসের গর্ভবতী ছিলেন। পেটের পীড়ায় তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অনেক অনুরোধে সেখানে সামান্য চিকিত্সা দেওয়া হয়। সেখানে তার পর্যাপ্ত চিকিত্সা না হওয়ায় গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে তার গর্ভপাত করানো হয়। কিন্তু তার যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সা হয়নি। রক্তপাত বন্ধ না হওয়ায় সেখান থেকে তারা সোমবার পঞ্চগড় সদরের চাকলাহাট ইউনিয়নের শ্বশুরবাড়িতে আসি। পরে পঞ্চগড় শহরের কামাতপাড়া এলাকার পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তার শেলীর বাসায় ডিএনসি করে। পরে পঞ্চগড় শহরের ডক্টরস ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রাম করেন। ডা. এ এইচ এম রাজিউল করিম তাকে আলট্রাসনোগ্রাম করান। তবে কীভাবে তার স্ত্রী করোনা পজিটিভ হলো তা তিনি বলতে পারেন না। এরই মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে ফোন আসলে তাকে রংপুরে পাঠানো হয়।

ঠাকুরগাঁয়ের স্থানীয় এক সাংবাদিক জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ওষুধের দোকানে একাধিকবার ঐ রোগীর লোকজন জ্বর, সর্দি ও ব্যাথার ওষুধ নিতে দোকানে আসতেন। বিষয়টি ঐ ওষুধ ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ ঐ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে রংপুরে প্রেরণ করে।

পঞ্চগড় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শেলীনা আক্তার শেলী জানান, এক আত্মীয়ের অনুরোধে ঐ নারীকে আমি চিকিত্সা দিই। পরে আবার একটু সমস্যার কথা ফোনে জানালে তাকে এক চিকিত্সকের কাছে আলট্রাসনোগ্রাম করাতে পাঠাই। একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঐ চিকিত্সক তার আলট্রাসনোগ্রামও করেন। বিকালে জানতে পারি তার নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ ফলাফল এসেছে। কিন্তু পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি তিনি আমার কাছে গোপন করেন।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘নমুনা পরীক্ষায় ফলাফল মঙ্গলবার পজিটিভ আসার পর ঠাকুরগাঁওয়ের প্রশাসন তাকে বাড়িতে পায়নি। তিনি পঞ্চগড়ে এসেছেন, জানালে আমরাও খোঁজ করে তাদের পেয়ে যাই। ঐ রোগী পালিয়ে যাওয়ায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়েছে।’

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের মেসেজের ভিত্তিতে পঞ্চগড়ের পুলিশ প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ঐ রোগীকে উদ্ধার করে রংপুরে পাঠিয়েছে।