অব্যবস্থাপনার দায় জনপ্রতিনিধিরা এড়াতে পারেন না

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২০, ২১:১৮

করোনা মোকাবিলায় সারাদেশে চলছে লকডাউন, সাধারণ মানুষের কাজ নেই, উপার্জনও নেই। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ত্রাণসামগ্রীও তারা ঠিকভাবে পাচ্ছে না। শত শত বস্তা ত্রাণের চাল ও অন্যান্য সামগ্রী চুরি  হয়ে যাচ্ছে। জাতির এই চরম দুর্দিনেও একশ্রেণির মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হচ্ছে না! আমাদের  বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধিকেই যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় না। নির্বাচনের আগে তাঁরা যেভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন, জাতীয় এই দুর্যোগে তাঁদের জনগণের পাশে দেখা যাচ্ছে না। যে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে জনগণের পক্ষে প্রতিবাদ করার অধিকার তাঁদের রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, আমাদের ভোটে নির্বাচিত বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধিকে আমরা দুর্দিনে পাশে পাই না। যারা ত্রাণসামগ্রী চুরি করছে, তারা অবশ্যই আমাদের জনপ্রতিনিধিদের কাছেও সুপরিচিত। যেসব এলাকায় চাল চুরির ঘটনা ধরা পড়েছে বা ভবিষ্যতে ধরা পড়বে, সেসব এলাকার জনপ্রতিনিধিদেরও তার দায় নিতে হবে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। তারা কেন ত্রাণ পায়নি, এর জবাবও জনপ্রতিনিধিদেরই দিতে হবে। নিজ নিজ এলাকার সাধারণ মানুষ কেমন আছে, তাদের কী অসুবিধা, ত্রাণসামগ্রী পেয়েছে কি না, পরিবারের কেউ অসুস্থ আছে কি না ইত্যাদি বিষয় জানতে বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব অপরিসীম। তাঁদের মনে রাখতে হবে, জনগণের সেবা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই তাঁরা জনগণের ভোট নিয়েছেন। সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের আরো সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হতে হবে। নিজ নিজ এলাকার মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব তাঁদেরই।

বিপ্লব বিশ্বাস

গোয়ালচামট, ফরিদপুর