প্রণোদনার অর্থ দিতে সরকারি ব্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ ডিসিসিআইর
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য সরকার ঘোষিত প্রণোদনার অর্থ পেতে জটিলতার আশঙ্কা করছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। বিশেষত বেসরকারি ব্যাংকের বিদ্যমান নিয়ম পরিপালনের সীমাবদ্ধতা থাকায় অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এ তহবিল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছে সংগঠনটি। এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি ব্যাংকের বদলে অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্র্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ তার এই আশঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা সত্ত্বেও ব্যাংক থেকে ঘোষিত প্যাকেজের আওতায় কুটির শিল্প ও এমএসএমই খাতের ব্যবসায়ীদের এই ঋণ পাওয়া খুব সহজ হবে না।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বেশির ভাগ এমএসএমই এবং নগদ লেনদেন নির্ভর ব্যবসাসমূহ ঋণ প্রাপ্তির আবশ্যকীয়তা পূরণের অভাবে ঋণ প্রাপ্তিতে সমস্যার মধ্যে পড়বে। তাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাতে সহজে প্রণোদনার টাকা পৌঁছাতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
এদিকে ক্রমান্বয়ে কীভাবে কিছু কিছু ব্যবসা-বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে পুনরায় চালু করা যায় তার জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করার জন্য ডিসিসিআই অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায়। নতুন এমএসএমই যাদের ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ দুই বছর বা তারও কম, তাদের ব্যবসা পুনর্নিবন্ধন ফি, গ্যাস, বিদ্যুত্ ও পানির বিল, ব্যাংক সংক্রান্ত অন্যান্য চার্জ এবং আমদানি, রপ্তানি সংক্রান্ত বন্দরের চার্জসমূহ মওকুফ করা যেতে পারে। এ ধরনের এমএসএমইদের দুই বছরের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কীমের আওতায় ১ (এক) শতাংশ সুদে চলতি মূলধন হিসেবে ‘ব্যবসায় পুনরুদ্ধার তহবিল’ প্রদান করা যেতে পারে। যেহেতু এ মুহূর্তে চলাচলের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি আর এ সময়টাতে যে সকল এমএসএমই ই-কমার্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ই-কমার্স ব্যবসাতে যাতে আরো এমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাগণ আগ্রহী হতে পারেন তাই তিনি তাদেরকে ভ্যাট, ট্যাক্স অব্যাহতি দেওয়া অথবা নগদ প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করেন। অপ্রচলিত খাত যেমন—ভাসমান ব্যবসায়ী, হকার, ভাসমান দোকান, মুদি এবং এক ব্যক্তি নির্ভর একক ব্যবসায়ী যারা আছেন তাদেরকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় নিয়ে এসে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে স্বল্প সুদে ব্যবসা পুনর্গঠন জরুরি তহবিল প্রদান করা যেতে পারে।
এছাড়াও, যথাযথ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণ করে সেই অর্থ বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। নিম্ন আয়ের মানুষ ও অসহায়দের খাদ্যনিরাপত্তা এবং অপ্রচলিত খাতের শ্রমিকদের আর্থিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও এ সময় আলোচনায় উঠে আসে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই সকল স্তরের মানুষের কথা বিবেচনায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ আর্থিক প্রণোদনা নীতিমালা করেছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নেওয়ার মাধ্যমে প্রণোদনা প্যাকেজকে আরো শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
