গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, পশ্চিমা কনকনে হিমেল বাতাস ও কুয়াশার কারণে প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে উত্তরের জেলা গাইবান্ধা। শীতের কারণে গোটা জেলার গরিব মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে। তীব্র শীতের কারণে সন্ধ্যার পর থেকেই রাস্তায় লোক চলাচল কমে যায়। শীতের কবল থেকে বাঁচতে পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
গাইবান্ধা অঞ্চলে হঠাত্ করে গত শুক্রবার বিকাল থেকে পশ্চিমা কনকনে হিমেল বাতাস বইতে শুরু করে। ফলে শীতের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকেই জবুথবু হয়ে পড়ে এ অঞ্চলের মানুষ। জেলার চরাঞ্চলগুলোর মানুষ ও গবাদিপশুর অবস্থা করুণ। গতকাল শনিবারও সারাদিন হিমেল বাতাস অব্যাহত ছিল। আকাশ পরিষ্কার ও রোদ উঠলেও শীতের তীব্রতা কমেনি।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুয়াশার কারণে সরিষা ক্ষেতের ফুল ঝরে পড়ছে এবং বীজতলায় বোরো ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য রবি ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীপথে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ বিপাকে পড়ছে।
এ দিকে জেলার গ্রামীণ জনপদ এবং যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও নদী তীরবর্তী এলাকার দুস্থ পরিবারগুলো গরম কাপড়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। জেলা উপজেলা সদরে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে শীতার্ত মানুষের গরম কাপড় সংগ্রহে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগে ব্যবসায়ীরা গরম কাপড়ের অস্বাভাবিক মূল্যও বৃদ্ধি করে দিয়েছে। ফলে দরিদ্র মানুষের পক্ষে শীতবস্ত্র সংগ্রহ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
