নাটোর জেলার চারটি আসনের ৫৬৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ। তবে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) ও নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে বেশি সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নাটোরে চারটি আসনে ভোট কেন্দ্র রয়েছে মোট ৫৬৬টি। এর মধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ৩৪টি, নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে ৪২টি, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে ৩০টি এবং নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে মোট ৪৪টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে ৫০টিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) এবং নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের মোট ৩০টি কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে। আর সবচেয়ে কম ঝুঁকি রয়েছে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একটি সাধারণ ভোট কেন্দ্রের জন্য ১০জন আনসার সদস্য, অস্ত্রধারী দু’জন পুলিশ এবং একজন গ্রাম পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে অস্ত্রধারী পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যের বাড়তি সংখ্যা। এ ছাড়া এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোরের চারটি আসনে ১৪ প্লাটুন বিজিবি, ৫১৪ জন সেনাসদস্য, ১২৮৫ জন পুলিশ সদস্য, ৬ হাজার ৭৯২ জন আনসার সদস্য, ১০০ জন র্যাব সদস্য আইন-শৃঙ্খলা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া ২০জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আটজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রথমে ১৫০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে তদন্ত শেষে বর্তমানে ৫০টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র অধিক গুরুত্বসহকারে মনিটরিং করা হবে। এ ছাড়া শহরে টহলের সংখ্যা কমিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করা হবে। তা ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারীও রাখা হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, নাটোরে চারটি সংসদীয় আসনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৫২২টি। এবার মোট কেন্দ্র ৫৬৬টি। জেলার মোট ভোটার ১৩ লাখ ৩,৮৭৭ জন। এর মধ্যে ৬ লাখ ৫০ হাজার ৫০৭ জন পুরুষ এবং ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭০ জন নারী ভোটার। আর ২ হাজার ৬৭৫টি কক্ষে ভোট প্রদান করবেন ভোটাররা।
শেরপুরে ৫৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আজ। ইতোমধ্যে এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে মোট ৯২টি কেন্দ্রের মোট ৪৬৮টি বুথে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ করা হবে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে এসব কেন্দ্রে ব্যালট ও বাক্সসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচন সামগ্রী পাঠানো হয়। উক্ত নির্বাচনে ২ লাখ ৫৪হাজার ৩৬৯জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এরমধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯১৬জন পুরুষ ও ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৫৩ জন মহিলা ভোটার রয়েছেন। আর এসব ভোটাররা তাদের স্ব-স্ব কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটদান করতে পারবেন। এ ছাড়া ভোটগ্রহণে ৯২টি কেন্দ্রে মোট ৯২জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৪৬৮জন সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ৯৩৬জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন বলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. আছিয়া খাতুন জানিয়েছেন।
এদিকে এই উপজেলার মোট ৯২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৮টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহূিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হবে।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) বুলবুল ইসলাম জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে মোট ১২ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এরমধ্যে ১জন পুলিশ ও ১জন আনসার সশস্ত্র অবস্থায় থাকবেন। তবে ঝুকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত আরও তিনজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবির সদস্যরাও টহলরত থাকবেন বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
কেন্দুয়ায় ৫০ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, কেন্দুয়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৯১টি। এই ৯১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রে বিগত দিনের জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ অগ্নিসংযোগ ও দায়িত্বরত আনসার এবং পুলিশ সদস্যদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে যেগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাট্টা, ছিলিমপুর, হাসুয়ারী, কৃষ্ণরামপুর, বাহাগুন্দ, জল্লী, ডাউকি, সান্দিকোনা, সাতবারুকা, কবিচন্দ্রপুর, বেজগাতী, বড়তলা, লষ্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেখৈরহাটি এনকে উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র রয়েছে।
কেন্দুয়া উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) আল-ইমরান রুহুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এসব কেন্দ্রের আশেপাশে স্ট্রাইকিং ফোর্স দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোতায়েন থাকবে।
