করোনা নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রে

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪০

করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় চীনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্য। অঙ্গরাজ্যটির রিপাবলিকান দলীয় অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক স্মিট ফেডারেল আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন। খবর রয়টার্স ও গার্ডিয়ানের।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এই মহামারির জন্য চীনের কর্মকর্তাদের দায়ী করা উচিত। কারণ উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। কাজেই এর দায়ভার চীন এড়িয়ে যেতে পারে না। তবে চীনের বিরুদ্ধে আনা এ ধরনের অভিযোগকে বুধবার প্রত্যাখ্যান করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিষয়টির আইনগত ভিত্তির অভাব রয়েছে। এছাড়া বাস্তবিক অর্থে এটি কোনো সত্যতার নিরিখে করা হয়নি। এটি অযৌক্তিক ছাড়া আর কিছুই নয়। মঙ্গলবার করা মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, করোনার কারণে বিশ্বে লাখো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আক্রান্ত হয়েছে ২৫ লক্ষাধিক। অর্থনীতিরও প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। মিসৌরিরাও এর শিকার হয়েছে। আর এ জন্য চীনা কর্মকর্তারাই দায়ী। লিখিত এক বিবৃতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল স্মিট বলেন, চীন সরকার ভাইরাসটির বিপদ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলেছে এবং এর বিস্তারের গতি কমাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, ‘হুইসেলব্লোয়ারদের থামিয়ে দিয়ে কোভিড-১৯-এর সংক্রামক প্রকৃতি ও বিপদ সম্পর্কে বিশ্বকে মিথ্যা বলেছে চীন সরকার এবং ভাইরাসটির বিস্তার থামাতে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এসব কারণে তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।’

এই মামলা খুব বেশি বা কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে কি না—তা পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো। এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হেস্টিংস আইন কলেজের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক চিমেন কাইটনার জানান, কিছু ব্যতিক্রম বাদে যুক্তরাষ্ট্রের আইন সাধারণত অন্য দেশের বিরুদ্ধে মামলায় বাধা দেয়। ‘আইনি সমস্যাটি হলো, এটি ঠিক সম্ভব নয়,’ বলেন কাইটনার; যিনি সম্প্রতি ‘করোনা ভাইরাসের জন্য মামলা করে চীনকে বিরক্ত করবেন না’ শীর্ষক একটি ব্লগ লিখেছেন।