গ্রিন কার্ডও সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২০, ২২:৫১

নতুন করোনা ভাইরাস বিস্তারের কারণে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। দুই কোটির বেশি মার্কিন নাগরিক কাজ হারিয়ে বেকার ভাতার জন্য ইতিমধ্যে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। এ অবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সব ধরনের অভিবাসন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত আগামী ৬০ দিনের জন্য কার্যকর হবে। আর যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে অভিবাসনের (গ্রিন কার্ডের) জন্য আবেদন করেছেন তাদের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত বলবত্ হবে। অভিবাসন নিষিদ্ধের ঘোষণার একদিন পরই এ কথা জানিয়েছেন তিনি। খবর:বিবিসি ও সিএনএনের।

ট্রাম্প বলেন, এই পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে সংকটময় পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে। অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরতদের ওপর এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না। ট্রাম্পের দাবি, চাকরি হারানো মার্কিনিদের জায়গায় বিদেশি অভিবাসীরা কাজ পেলে তা মার্কিনিদের প্রতি অন্যায় হবে। তিনি বলেন, আমরা মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাই এবং আমি মনে করি, ভবিষ্যতে আমরা তাদের সুরক্ষার প্রতি আরো বেশি জোর দেব।

তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। অনেকেই বলছেন, তার বিরুদ্ধে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় নাগরিকদের মনোযোগ অন্যদিকে সরাতে চাইছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কাউন্সিল টুইট করে বলেছে, করোনা ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ মারা যাওয়ার বিষয়টি থেকে আমাদের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কার্যক্রম। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের সদস্য আলী নূরানি টুইটারে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতের ১৭ শতাংশ কর্মী এবং সরাসরি সেবা খাতের ২৪ শতাংশ কর্মী অভিবাসী। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবারই এই সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প সই করতে পারে বলে খবরে বলা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

প্রসঙ্গত, অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের বৈধতা এবং মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সুযোগ দেয় গ্রিন কার্ড। সাধারণত, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখ গ্রিন কার্ড অনুমোদন করা হয়। ২০১৮ সালে মার্কিন সিনেটের দেওয়া এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ১০ লাখ গ্রিনকার্ডের প্রায় ৭০ শতাংশ পায় এমন অভিবাসীরা, যাদের আত্মীয়-স্বজন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।