করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চলমান সাধারণ ছুটির (লকডাউনে) মধ্যেও সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা মাস শেষে ঠিকঠাক বেতন পাচ্ছেন। একইভাবে কম হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও পাচ্ছেন বেতন-ভাতা। কিন্তু নন-এমপিও শিক্ষকদের মাস শেষে আয়ের খাতা শূন্য। আয় হারিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটছে তাদের।
এসব অসহায় শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন বাবদ যা কিছু আয় হতো এর কিছু অংশ হলেও তারা পেতেন। এছাড়া প্রাইভেট টিউশন ছিল। কিন্তু প্রায় এক মাস ধরে স্কুলের পাশাপাশি প্রাইভেট টিউশন বন্ধ। যাদের ছোটোখাটো ব্যবসা ছিল তা-ও বন্ধ। ফলে আয়ের কোনো পথই খোলা নেই তাদের সামনে। ফলে বোবা কান্না এখন প্রতিটি নন-এমপিও শিক্ষকদের ঘরে।
গত অক্টোবরে সরকার থেকে নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খামখেয়ালি এবং অদক্ষতার কারণে সফল হয়নি। যদিও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছিলেন মার্চের মধ্যেই সবাই এমপিওভুক্ত হবেন।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী বিনা বেতনে চাকরি করেন। বিদ্যালয় থেকে সামান্য কিছু দেওয়া হলেও গত জানুয়ারি মাস থেকে সেটা বন্ধ রয়েছে। তারা বিনা বেতনে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবার করোনা ভাইরাসের এই সময় মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা হাত পেতে সাহায্যও নিতে পারছেন না। আবার সংসারও চালাতে পারছেন না। সমাজের শিক্ষকদের যে সম্মানটুকু ছিল তা আজ বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। অনেকে গোপনে সাহায্যের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন।
দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৩ অক্টোবর একযোগে ২ হাজার ৭৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এমপিও পাওয়া এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের গত বছরের জুলাই থেকে নির্ধারিত বেতন-ভাতা পাওয়ার কথা। কিন্তু এমপিও তালিকা প্রকাশ করলেও বেতন ছাড়ের আদেশ জারি করছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
অনিল কুমার চক্রবর্তী নামের এক শিক্ষক জানিয়েছেন, পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের নামে ও নানা অজুহাতে দীর্ঘ সময় নষ্ট করা হলেও অদ্যাবধি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ছাড় করা হচ্ছে না। সামনে জুন মাস পার হলে এই এক বছরের বেতন আর পাওয়া সম্ভব হবে কি? তিনি শিক্ষকদের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, নন-এমপিও শিক্ষকরা যাতে এমপিওভুক্ত হতে পারেন এ জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেছি। দীর্ঘ সময় পরে সরকার একটি তালিকাও প্রকাশ করল। কিন্তু এমপিও দিতে পারল না। এ কারণে খেয়ে না খেয়ে আছে সমাজ গড়ার কারিগর শিক্ষকরা।
