করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জে লকডাউন আরো বেশি জোরালো করছে প্রশাসন। আইইডিসিআর কর্তৃক নারায়ণগঞ্জ জেলাকে করোনা সংক্রমণ প্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বিবেচিত হওয়ায় আইইডিসিআর দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— করোনা সংক্রমণ রোধে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে আছে। মানুষকে ঘরে রাখার জন্য সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় আরো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারী কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ৩১ দফা নির্দেশনার মধ্যে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিত্সাব্যবস্থা, হোম কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে করণীয়, সামাজিক দূরত্ব ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ত্রাণসহায়তা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত রাখতে প্রশাসনসহ সকলের করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনাসমূহকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের সকল স্তরের মানুষ, শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী, কৃষক ও ব্যক্তি পর্যায়ে প্রত্যেকের করণীয় এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও গুজব রটানো বন্ধ করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে সকলকে অবহিত করা হচ্ছে। কেউ যেন অভুক্ত না থাকে প্রধানমন্ত্রীর সে নির্দেশনার আলোকে করোনা ভাইরাসের কারণে যে সকল কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে খাদ্য সমস্যায় আছে তাদের তালিকা প্রস্তুত করে সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসন ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। হটলাইনে প্রাপ্ত ফোন কলের ভিত্তিতে জরুরিভাবে কর্মহীন অসহায় পরিবারের বাড়ি গিয়ে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে সরকারি খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণের স্বার্থে সঠিক তথ্য হটলাইন নম্বরে জানানোর জন্য সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে।
এছাড়া সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেকটি মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার পরিবর্তে মুসুল্লিদের বাসায় নামাজ পড়ার বিষয়টি ও জামাতে পাঁচ জনের অধিক অংশ না নেওয়ার বিষয় মসজিদের মাইকে প্রচার করা হচ্ছে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নিজস্ব উপাসনালয় ব্যতীত যার যার ঘরে প্রার্থনা কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তিদের আইন ভঙ্গের শাস্তি সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে, বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া এ কার্যালয়ে স্থাপিত জেলা মনিটরিং সেল ও কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা আছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এ জেলায় সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪২১ জন, তার মধ্যে আরোগ্য লাভকারী মোট ১৬ জন, ৩৩ জন মারা গেছে, ১৬ জন সন্দেহভাজন করোনা রোগী হিসেবে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
