তেলের দাম নিয়ে অস্থিরতা সহসাই কাটছে না

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:২৬

মার্কিন বাজারে গত সোমবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ঋণাত্মক হবার প্রভাব পড়েছে অন্য বাজারেও। যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশ কমে যেতে দেখা যায়। সর্বনিম্ন ব্যারেল প্রতি দাম ১৬ ডলারে নেমে গেলেও দিন শেষে ২১ ডলারে স্থির হয়। করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বই লকডাউন হয়ে আছে। ফলে জ্বালনি তেলের চাহিদা কমে গেছে ব্যাপক হারে। উত্তোলন না কমার কারণে মজুত কেন্দ্রগুলোও পরিপূর্ণ হয়ে আছে। তাই অপরিশোধিত তেলের দাম কমে গেছে ব্যাপক হারে। তবে মার্কিন বাজারে মঙ্গলবার থেকেই শূন্যের ওপরে ওঠে তেলের দাম। সোমবার আমেরিকার তেলের দামের সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচার্স বা ডব্লিউটিআই ফিউচার্স এক ব্যারেল (প্রায় ১৫৯ লিটার) অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছে মাইনাস ৩৭ দশমিক ৬৩ ডলারে। এক মাস পর তেলের দাম কত হবে তা স্থির করে ডব্লিউটিআই ফিউচার্স। ডব্লিউটিআই ফিউচার্সে জুন মাসে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ২০ দশমিক ৪৩ ডলার ও জুলাই মাসে ২৬ দশমিক ১৮ ডলার ধরা হয়েছে।

মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাসের কমোডিটিস বিভাগের প্রধান জেফরি কুরি সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, মার্কিন বাজারে তেলের দাম খুব শিগিগরই বাড়ছে না। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মজুত কেন্দ্রগুলো পরিপূর্ণ হয়ে আছে। তাছাড়া বর্তমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির কোনো লক্ষণ নেই। এখন যদি তেল উত্তোলন কমানো হয় সে ক্ষেত্রে দাম বাড়তে পারে। তবে এটা সহজ কাজ নয়। সাময়িক সময়ের জন্য তেল উত্তোলনকেন্দ্র বন্ধ করা হলে খনিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাছাড়া একবার তেল উত্তোলন বন্ধ করলে সেইসব খনি পুনরায় চালু করা অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে। অথবা তেল কূপগুলো চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে উত্তোলন সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করা বা হ্রাস করা সম্ভব নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী মার্কিন ভাসমান তেল মজুত কেন্দ্রগুলোতে ১৬ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে। ফেডারেল সরকার নতুন করে তেল মজুতকেন্দ্র লিজ নেওয়ার চেষ্টা করছে। জ্বালানি বিশ্লেষক রাইস্টাড এনার্জি সতর্ক করে বলেছে যে, তেলের দাম যদি ২০ ডলারের নিচে নেমে যায় তাহলে মার্কিন ৫৩৩ তেল সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যাবে। এদিকে তেলের দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ১৩ এপ্রিল নানা আলোচনার পর ওপেক প্লাস ও তেল উত্পাদক মিত্রদেশগুলো তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারা জুন মাস থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলন কমানোর ব্যাপারে একমত হয়েছে। তবে জুন মাসের আগে তেল উত্তোলন না কমালে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।