দেশব্যাপী নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে প্রশাসন। আজ ভোট। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করতে মাঠে রয়েছে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া:বগুড়ায় নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে প্রশাসন। পুলিশ, আনসার, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর ১৪ হাজার ৮২ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর বাইরে র্যাবের ১০টি টিমে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে। গতকাল শনিবার সহকারী রিটার্নিং কার্যালয়গুলো থেকে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
জেলার সাতটি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র মিলে ৪৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটার রয়েছেন ২৫ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫৮জন। নির্বাচনে ৯২৬টি কেন্দ্রে একজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১২জন করে ৯২৬টি কেন্দ্রে ১১ হাজার ১১২জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর বাইরে পুলিশের ১০৪টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি আসনে ছয়টি করে সাতটি আসনে পুলিশের ৪২টি বিশেষ মোবাইল টিম থাকবে। পুলিশের সাধারণ মোবাইল টিম থাকবে ৪৯টি এবং স্ট্রাইকিং হিসেবে থাকবে আরো ১৩টি টিম। এ ছাড়া নির্বাচনে বিজিবির ১৬ প্লাটুন ৩২০জন সদস্য এবং সেনাবাহিনীর আরো ৬৫০ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
জেলার সাতটি আসনের জন্য ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া-১, বগুড়া-৩, বগুড়া-৪, বগুড়া-৫, বগুড়া-৬ (সদর), বগুড়া-৭ আসনে ৪জন করে ২৪জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল জানান, ভোট যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বগুড়ায় র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকা থেকেও র্যাব সদস্যরা যোগ দিচ্ছেন। বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, সুষ্ঠু এবং সুন্দর নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
গোপালগঞ্জ:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ জেলার পাঁচ উপজেলার ৩৮৮টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে গেছে। জেলার সব উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এসব ভোট কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, অমোচনীয় কালিসহ নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো শুরু হয়। এসব সামগ্রী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা নির্বাচনী সামগ্রী, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিজ নিজ কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তারা দুপুর দুটার মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান মুন্সি। এ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৭৯ হাজার ৯৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪১ জন ও মহিলা ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ১১৬জন। জেলার তিনটি আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ৩৮৮টি। আর কক্ষ ১ হাজার ৭২৯টি। গোপালগঞ্জে তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা, উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনী, বিজিবি টহল দিচ্ছে। এরই মধ্যে কঠোর নিরাপত্তার সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করেছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
বাগেরহাট:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এসব আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলে মোট ২২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-২ আসনে পিতা ও পুত্র নির্বাচন করছেন। জেলার ৪টি আসনে ৪৬৮ ভোট কেন্দ্রে ১১ লাখ ১৩ হাজার ১৬৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৯ জন পুরুষ ও ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯৬ জন নারী ভোটার রয়েছে। এসব ভোট কেন্দ্রে ২ হাজার ২৮৪টি ভোট কক্ষ রয়েছে।
সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য রয়েছেন ৪৬৮ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ২ হাজার ২৮৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং ৪ হাজার ৫৬৮ জন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটের দিনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে জেলার ৪৬৮ ভোট কেন্দ্রে প্রায় ৫ হাজার ৬শ’ আনসার সদস্য, ১৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য ও শতাধিক র্যাব সদস্য থাকবে। এ ছাড়াও পুলিশের প্রায় একশ’ ভ্রাম্যমাণ টিম মাঠে টহল দিবেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল টিম এবং জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের নির্বাচনী ভ্রাম্যমাণ আদালত নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) আসনে ১১০টি কেন্দ্রে ৫৯৫টি ভোট কক্ষে ভোট দিবেন ৩ লাখ ২ হাজার ৩২৮ জন। এ আসনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে।
বাগেরহাট-২ (সদর উপজেলা ও কচুয়া) আসনে ১১৯টি কেন্দ্রে ৫৯১টি ভোট কক্ষে ভোট দিবেন ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৬ জন। এ আসনে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে।
বাগেরহাট-৩ (রামপাল ও কচুয়া) আসনে ৯৬টি কেন্দ্রে ৪৭১টি ভোট কক্ষে ভোট দিবেন ২ লাখ ২৬ হাজার ১৯৪ জন। এ আসনে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে।
বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা) আসনে ১৪৩টি কেন্দ্রে ৬২৭টি ভোট কক্ষে ভোট দিবেন ৩ লাখ ৫৪৭ জন। এ আসনে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে। এসব বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
বাগেরহাটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, বাগেরহাটের চারটি আসনে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৪৬৮টি। একটি অবাধ, সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার নির্বাচনী সরঞ্জামাদি উপজেলাতে পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
সাতক্ষীরা:সাতক্ষীরার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জমাদি পাঠানো শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল। এ দিকে, সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে প্রশাসন।
রিটার্নিং অফিসার এস এম মোস্তফা কামাল জানান, ভোটকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশসহ ১৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া ১ হাজার ৫০০ সেনাসদস্য ও ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য টহলে রয়েছেন। তিনি আরো জানান, জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মোট ৫৯৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৭টি সাধারণ ও ৪৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে, এসব কেন্দ্রে ভোটারদের যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তালা (সাতক্ষীরা) :তালায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা শনিবার স্ব স্ব কেন্দ্রে হাজির হন। কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া, জেলা প্রশাসনের একাধিক ভিজিল্যান্স টিম মাঠে থাকবে। কেন্দ্রে থাকবেন বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষক।
সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার ৯৩টি কেন্দ্রে ৯৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪৮৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ৯৭৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া কলারোয়া উপজেলার ৭৫টি কেন্দ্রে ৭৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩৮১ জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ৭৬২ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এ আসনে ১৬৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১১২টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে তালায় ৯৩টি কেন্দ্রের ৪৩টি এবং কলারোয়ায় ৭৫টির মধ্যে ৬৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরীন জানান, নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।
নড়াইল:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নড়াইলের ১ ও ২ আসনের নির্বাচনী সরঞ্জাম স্ব স্ব কেন্দ্রে পৌঁছানোর কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে স্ব-স্ব কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের মাধ্যমে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিলসহ বিভিন্ন নির্বাচনী সরঞ্জাম নির্বাচনী কেন্দ্রে পৌঁছানোর কাজ শুরু হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও উত্সবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রশাসন থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতায় মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্য। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নড়াইল-যশোর সড়কের রূপগঞ্জের বউবাজার এলাকায় চেকপোস্টে যানবাহনে তল্লাশি করেন সেনা সদস্যরা।
সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে নড়াইলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের দিনসহ আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবেন। এ ছাড়া ৪ প্লাটন বিজিবি, র্যাব, ৮৭৮ জন পুলিশ, ২ হাজার ৯০৪ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত থাকবে।
পঞ্চগড়:পঞ্চগড়ের দুটি আসনের পাঁচটি উপজেলা থেকে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি পাঠানো শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে প্রত্যেক কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসাররা নির্বাচনের মালামাল বুঝে নিয়ে পুলিশ ও আনসারসহ কেন্দ্রে রওয়ানা দিয়েছেন। প্রত্যেক উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা প্রিজাইডিং অফিসারদের হাতে হাতে নির্বাচনী মালামাল সরবরাহ করেন। পঞ্চগড় জেলার দুটি আসনের পাঁচটি উপজেলায় মোট ২৮৬টি ভোটকেন্দ্র। এরমধ্যে পঞ্চগড়-১ আসনের সদর, আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় ভোট কেন্দ্র ১৫৫টি এবং পঞ্চগড়-২ আসনের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় ভোটকেন্দ্র ১৩১টি। পঞ্চগড়-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২০৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ২২১ জন। পঞ্চগড় ২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ২২৭ জন।
নাটোর: নাটোরের ৪টি আসনের ৫৬৬টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে সদর উপজেলার হল রুম থেকে নাটোর-২ আসনের ১৫৭টি কেন্দ্রের জন্য নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণের কাজ শুরু করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বানু। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের ১২৫টি কেন্দ্রের জন্য লালপুর উপজেলা পরিষদ হল রুম এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা চত্বর থেকে নির্বাচন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের ১১৮টি ভোট কেন্দ্রের জন্য উপজেলা কোর্ট মাঠ থেকে নির্বাচন সামগ্রী গ্রহণ করছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। তা ছাড়া নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের ১৬৭টি কেন্দ্রের জন্য গুরুদাসপুর উপজেলার সার্ভার স্টেশন এবং বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে নির্বাচন সামগ্রী বিতরণ হয়েছে।
নাটোর-২ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বানু জানান, সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচন সামগ্রী বিতরণের কাজ শুরু হয়। নির্বাচন সামগ্রী নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসাররা আবার রিপোর্ট করবেন। এবারের নির্বাচনে নাটোরের চারটি আসনে মোট ৫৬৬টি ভোট কেন্দ্রে ১৩ লক্ষাধিক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ৫৬৬ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২৬৭৫ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োজিত থাকবেন।
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের ৪টি আসনের কেন্দ্রে কেন্দ্রে শনিবার দুপুর থেকে নির্বাচনী মালামাল প্রেরণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রিজাইডিং, পোলিং অফিসার ও নিরাপত্তাকর্মীরা ভোট কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছেছেন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৫৬৪ জন। মোট ভোট কেন্দ্র আছে ৬৩৩টি। এর মাঝে ৪২২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে প্রার্থী সাতজন। হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন। হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে লড়ছেন পাঁচ প্রার্থী।
ঝিনাইদহ:ঝিনাইদহ জেলায় ভোট গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য ভোট গ্রহণের সামগ্রী বিভিন্ন উপজেলায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে পৌঁছে গেছে। এগুলো কেন্দ্র ভিত্তিক ভাগ করে বস্তাভর্তি করা হয়েছে। শনিবার সকালে এগুলো সব ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হবে।
জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং অফিসার সরোজ কুমার নাথ জানান, এবার জেলার চারটি আসনে ভোটকেন্দ্র থাকবে ৫৭৮টি। আর ভোট গ্রহণ কক্ষ থাকবে দুই হাজার ৬৩৫টি। এ জেলায় এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৪২ হাজার ৩৩০ জন।
পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, নির্বাচনে নিরাপত্তা ও ভোট গ্রহণে সহায়তায় সেনা, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে ৯ হাজার ১১৯ জন মাঠে থাকবে। আর ১৭ জন ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে ১৭টি সেনা ও বিজিবি টিম টহলে থাকবে।
এ দিকে, সারা জেলা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। সেনা, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের টহল চলছে।
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): নাসিরনগরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কামাল মোহাম্মদ রাশেদ। এসময় সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল কবির, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল কালাম আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শনিবার সকাল থেকে এসব সামগ্রী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল কবির জানান, অবাধ সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে সেখানে সব ধরনের বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
