নাগরিকমত

অনাহুত অন্ধকার থেকে বাঁচার উপায় কৃষকের কৃষি

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৪

করোনার মধ্যে সবাই বাসায় লকডাউন আর এমন সময় ঢাকার রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিক্ষোভ করছে কিছু শ্রমিক। অনেকেই হয়তো তাদের দিকে ভ্রু কুচকে তাকাচ্ছেন, যখন সারা দেশের প্রশাসন, পুলিশ, আর্মি, আমলারা সবাই তাদের ঘরে রাখতে ব্যস্ত আর তারা কিনা নিয়ম ভেঙ্গে রাস্তায় এসে পড়েছে। শ্রমিকদের এই রাস্তায় চলে আসাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে হয়তো আমরা ভুল করব। শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে তাদের ঘরে থাকতে বললে কিভাবে তার ঘরে থাকবে? আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও যদি বেতন না দেওয়া হয়, তাইলে সেও ঘরে থাকব না। এই শ্রমিকরা হয়ত তুলনামূলক সংঘবদ্ধ হতে পারে অন্য শ্রমিকদের তুলনায়। তাই হয়তো তারা রাস্তায় নামার সাহস করেছে।

কিন্তু এরা ছাড়াও আরো অনেকে হয়ত আছেন যাদের ঘরে খাবার মত চালটুকুও নেই। ঐ শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে দেখেন একবার। পুলিশ, আর্মি আর আমলা দিয়া কতদিন আটকে রাখা যাবে তাদের। ইতোমধ্যেই যশোরে আমরা দেখেছি ত্রাণের ট্রাক থামিয়ে রাস্তা থেকে চাল নিয়ে যেতে। মানুষের যখন জীবিকায় টান পরে তখন সে যেকোন মূল্যেই সেই জীবিকাকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। এ জন্য হয়তো শুরুতে সে তার মূল্যবান সম্পত্তি হাতছাড়া করে। যেমন জমানো টাকা, স্বর্ণ অলংকার বিক্রি করে জীবিকা যোগানের চেষ্টা করে। দ্বিতীয় ধাপে তখন তার আয়ের উৎসটাকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়।

এই ঘটনা যখন বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে তখন ব্যাপারটাকে খুব একটা জটিল মনে হয় না বা এই ঘটনার প্রভাব সমাজের অন্য সবার উপর গিয়ে পরে না। কিন্তু যখন সেটা গণ মানুষের ক্ষেত্রে ঘটে তখন এর মূল্য সমাজের সকলকেই দিতে হয়। এ জন্যই যেকোন দুর্যোগের সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রথম কাজ হচ্ছে সবার আগে দুর্যোগ অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা যেকোন মূল্যে এবং পরবর্তীতে সংস্থাগুলোর কাজ হচ্ছে উক্ত পরিস্থিতিতে জনগণের মধ্যে আয় বর্ধনকারী কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা যাতে দুর্যোগ পীড়িত মানুষগুলো নিজেরাই তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করতে পারে। অন্যথায় অত্র অঞ্চলে যেকোন সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

উন্নয়ন সংস্থা বা কোন দেশ যখন এইরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে তার পরিণতিতে দীর্ঘকালীন সংঘর্ষ মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। এর ভালো উদাহরণ আরব বসন্ত। আমরা অনেকেই আরব বসন্তকে গণতন্ত্রের জাগরণ হিসেবে জানলেও এর পিছনে খাদ্য সংকট অনেক বড় একটা ভূমিকা পালন করেছে। এই খাদ্য সংকটের প্রধান কারণ ছিল আরব বসন্তের আগের বছরের চীন, রাশিয়া, ইউক্রেনে হয়ে যাওয়া ব্যাপক খরা। খরার কারণের চীনের গম উৎপাদনে অর্ধেকে কাছে নেমে যায়। যেহেতু মিশরের বেশির ভাগ খাবারেরে যোগান আসে চীনের আমদানি করা গম থেকে বানানো রুটি দিয়ে, মিশরে খাদ্য ঘটতি দেখা দেয় এবং খাদ্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। মিশরের শহরে বসবাসকারী মানুষের যেহেতু আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ তারা ব্যয় করে তাদের খাবারের পিছনে, খাদ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় অনেক কেই অভুক্ত থাকতে হয়েছিল। তার পরিণতি মিশর গণ অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে অভিজ্ঞতা লাভ করে। শুধু মিশর নয়, মধ্য আফ্রিকা এবং মধ্য প্রাচ্যের সব দেশ শুধুমাত্র ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বাদে, যাদের জনগণ গড় আয়ের শতকরা মাত্র ৯ থেকে ১০ ভাগ খাবারের জন্য ব্যয় করে, এই অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা তারাও নিয়েছে। ২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যের (ফুড এবং বেভারেজ) পিছনে গড় ব্যয় হচ্ছে তার আয়ের শতকরা ৪৮.৩৯ ভাগ। এদের মধ্যে যাদের আয় ১৬ হাজার টাকার নিচে তাদের খাদ্যের পিছনে গড় ব্যয় হচ্ছে শতকরা ৫১.৭৬ ভাগ। এই পরিস্থিতি যারা এই মুহূর্তে বাংলাদেশে খাদ্য সংকটে পড়বে তাদের হয়তো অতি প্রয়োজনীয় বা আয় বর্ধনকারী সম্পদটিকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হলেও অনাহারে দিন কাটাতে হবে।

বাংলাদেশ হাউজহোল্ড অ্যান্ড এক্সপিনডিচার সার্ভে এর তথ্যমতে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে মানুষের খানা প্রতি মাসিক গড় আয় হচ্ছে ১৫ হাজার ৯৮৮ টাকা। এই সংখ্যাত গড় আয় যেখানে উচ্চবিত্তের আয়ের ভূমিকা অনেকাংশে বেশি। উচ্চ আয় বৈষম্যের দেশে অধিকাংশ মানুষের আয় কত হতে পারে তা একটু ভেবে দেখলেই খুঁজে পেতে কষ্ট হবে না আশা করি। একই তথ্যমতে সর্বনিম্ন আয় হচ্ছে ৪৩৬৬ টাকা। এই হিসাব দেখে কিছুটা খটকা লাগতেই পারে, তবে কি বাংলাদেশ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। কেউ কেউ হয়তো বলবেন, মধ্য আফ্রিকার দেশের পরিস্থিতি আর বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন। তারা খাদ্য আমদানি করে, অর্থনীতি তেলের উপর নির্ভরশীল বা গণতান্ত্রিক জাগরণের প্রয়োজন ছিল সেখানে একনায়কতন্ত্র রাজনীতি ব্যবস্থা জনগণ মেনে নিতে পারে নি। কথাগুলোর বিপক্ষে আমিও নই, বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক একটি দেশ, খাদ্যের জন্য খুব কমই অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়। এই খানের অর্থনীতি তেলের উপর নয় তৈরি পোশাকের উপর নির্ভর করে এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিদ্যমান। তবে আমি আপনাদেরকে আরেকবার ভেবে দেখতে বলব বিষয়গুলোর দিকে।

বাংলাদেশ একটি কৃষি সমৃদ্ধ দেশ হওয়া সত্যেও এই দেশের আয়ের জন্য আমাদের কিছুটা হলেও নির্ভর করতে হয় গার্মেন্টস শিল্পের উপরে। যে কারণে সারাদেশ লকডাউন করে দেওয়ার মত সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারলেও তৈরি পোশাকের কারখানার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে আসতে মালিক বা সরকার কেউই আসতে পারে নি। যার ফলাফল গত ৫ এপ্রিলের ঘটনা লকডাউনকে আরো অন্তত ২০ দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে দেশকে। এমনকি আমরা এখনো ধারণা করতে পারছি না কবে আমরা এই লকডাউন থেকে মুক্তি পাবো। আর তথাকথিত স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশের কতটা স্বয়ংসম্পূর্ণ তা আমরা গত বছরের আমদানি নির্ভর খাদ্য যেমন পেয়াজ এবং অন্যান্য খাদ্য দ্রব্যের দামের ঊর্ধ্বগতি আমাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তার দুর্বল দিকটিই প্রকাশ করে। বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে ১১৩ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে ৮৩ তম। তার মানে আমাদের খাদ্যের জন্য আমদানির উপর নির্ভর করতেই হয়।

আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি হল তৈরি পোশাক, যা মূলত একটি সেবা খাত। বাংলাদেশ কোনকিছুই উৎপাদন করে না বরং অন্যদেশের উৎপাদিত কাঁচামালের উপযোগ বৃদ্ধি করে থাকে এবং তাও অন্য দেশের চাহিদার উপরে নির্ভরশীল। মিশর বা মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের তুলনায়ই এই পোশাক খাত আমাদের তেমন কোন টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি গড়তে পারবে না। কারণ করোনা উত্তর বৈশ্বিক পরিস্থিতি কেমন হতে যাচ্ছে আমরা অনেকেই আঁচ করতে পারি। বিশ্ব তার স্বাস্থ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে ভেবে দেখছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা শঙ্কা প্রকাশ করছে যে বৈশ্বিক গ্রামটি ছোট ছোট ঘরে বিভক্ত হয়ে পরবে। যেই সীমানা ঘুচিয়ে দেশগুলো পারষ্পারিক সেতুবন্ধন তৈরি করেছিল তা লোপ পেয়ে শুরু হতে পারে 'খাদ্য জাতীয়তাবাদ' যা দেশগুলোকে খাদ্য রফতানিতে আরো বেশি কনজারভেটিভ ভূমিকা নিতে বাধ্য করবে। ফলে বাড়বে খাদ্যের দাম। এমনি অধিক টাকার বিনিময়ে খাদ্য আমদানি করার সুযোগটিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে খাদ্য রফতানি কারক বৃহৎ দেশগুলো যেমন রাশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, ইউক্রেন নিজদেশের খাদ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষ নীতির দিকে ঝুঁকছে। যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসুরক্ষার নীতি নতুন করে সারা পৃথিবীকে জাতীয়তাবাদের কথা জানান দিচ্ছে। যেমন কানাডায় চিকিৎসা সুরক্ষা সামগ্রী রফতানি বন্ধ করে দেয়া বা ইউরোপের দেশের প্রতি বিশ্বের এই অভিভাবকের আচরণ নিশ্চয়ই কারো অজানা নয়।

এই অবস্থায় দেশের বেশিরভাগ মানুষ লকডাউন থাকাকালীন অবস্থায় বা করোনা উত্তর সময়ে তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য যদি তাদের সহায় সম্বলটুকু হারাতে হয়, তবে জীবিকাকে নিরাপদ করতে সেই মানুষগুলোই বিকল্প জীবিকার অভাবে চরম পন্থা অবলম্বন করতে বাধ্য হবে। কারণ অন্য সকল সংকটের সময়ই সংকটগুলো বিচ্ছিন্নভাবে নির্দিষ্ট দেশেই থেকেছে। পৃথিবী এই প্রথমবারের মত সারা বিশ্ব এমন একটি সংকটকে মোকাবেলা করতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বন্ধু রাষ্ট্র সাহায্য নিয়ে আসতে কতটা সমর্থ হবে এটাও আরো একবার ভেবে দেখার বিষয়। এই উদ্ভূত চরম পন্থা দেশের সামগ্রিক সামাজিক বন্ধনকে বিনষ্ট করে মানুষের মাঝে আস্থার সংকট তৈরি করবে। দেশে জুড়ে শুরু হতে পারে দাঙ্গা হাঙ্গামা বা রাজনৈতিক সামাজিক অভ্যুত্থান যা দেশকে আরো সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আর এই সংকটকে রোধ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে জনগণের মধ্যে খাদ্যের যোগান ঠিক রাখা যাতে তারা তাদের আয় বর্ধনকারী সম্পদটিকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়ে চরম পন্থার বিকল্পহীন হতে না হয়। যাতে মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি না হয়। অনেক দিনমজুর বা স্বল্প আয়ের লোকজনের জমানো টাকা শেষ হওয়ার পথে, তৈরি পোশাক শ্রমিকদের সকলে তাদের বেতন ভাতা এখনো পাননি। এমনি খেটে খাওয়া লোকগুলোর মধ্যে অনেকেই অনাহারে আছেন। মানুষ তার স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে অনেকের কাছেই খাদ্যের যোগান দিচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। নিঃসন্দেহে স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা পুলিশ বাহিনীকে প্রত্যক্ষ করছে বাংলাদেশ। কিন্তু বন্দুক বা লাঠির ভয় দেখিয়ে মানুষকে ঘর বন্দি করে রাখা যাবে না। মানুষের জীবিকার উপযুক্ত সন্ধান দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে কোন কিছুই কাজ করবে না।

এতকিছুর মধ্যে আমাদের যে আশার বানীও নেই তাও নয়। সারাবিশ্ব যখন শিল্পায়নের ডামাডোলে নিজেরদের উৎপাদন ব্যবস্থা একে অন্যের উপর নির্ভরশীল তখন বাংলাদেশ তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানেই আছে তার অনুন্নত শিল্পায়নের কারণেই। কারণ এই করোনা পরিস্থিতির কারণে স্থবির বিশ্ববাণিজ্যের প্রভাব বাংলাদেশের রফতানির প্রধান খাত তৈরি পোশাক এবং বৈদেশিক শ্রমবাজারের উপর দিয়ে গেলেও দেশের দুই তৃতীয়াংশ মানুষের জীবিকা কৃষি বা কৃষি সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে তেমন কোন প্রভাব পরবে না। যদি আমরা কৃষকদেরকে সেই প্রণোদনা এবং সাহায্য করতে পারি। করোনা উত্তর বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় এবং দেশকে অনাহুত অন্ধকার সময়ের থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে একমাত্র কৃষি এবং কৃষক। বাংলাদেশে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, এই ফসল যেন কৃষক তার ঘরে সময় মত তুলতে পারে। যেন বর্ষায় এই ধানের ক্ষতি না হয় এবং তার ধানের ন্যায্যমূল্য পায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আর শহরে ১০ থেকে ১২ গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে! শহরের মানুষ খাবারের অভাবে ভুগছে। সরকারের দায়িত্ব এখন সেই কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে সেই ফসল কিনে শহরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া, যাতে শহরের মানুষ খাবার পায় আর কৃষক তার পরবর্তী ফসল উৎপাদনের জন্য অর্থের যোগান দিতে পারে।

উন্নয়ন কাজের গতি কিছুটা শ্লথ করে হলেও কৃষকদের কাছে বিনা সুদে ঋণ পৌঁছে দিতে হবে যাতে কোন জমিই অনাবাদী না থাকে। গ্রামে গ্রামে স্বেচ্ছাসেবা মাধ্যমে কৃষকের এই ঋণের ব্যবস্থাকে কৃষক বান্ধব করতে হবে যাতে কৃষক স্বাক্ষর জ্ঞানের ঘাটতির কারণে ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয়। যে সকল গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়নি তাদের বেতন ভাতা দিয়ে দিতে হবে যাতে তাদের শেষ সম্বলটুকু হাতছাড়া করতে না হয়। পাশাপাশি এই উদ্ধৃত শ্রম গ্রামে গিয়ে কৃষি কাজে যোগ দিয়ে দেশের খাদ্য সুরক্ষাকে নিশ্চিত করতে পারে।

ইতোমধ্যেই অনেক তৈরি পোশাক শ্রমিক বোরো ধান কাটার কাজে লেগে পরেছে, এটা আমাদের জন্য সুসংবাদ। তবে এটা নিশ্চিত করতেই হবে যেন বর্ষা কোনভাবেই এই মৌসুমের ধানের ক্ষতি করতে না পারে। দিন শেষে কৃষি বাঁচলেই বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি রচিত হবে। সুদিন আসবেই, সেই সুদিনের জন্য আমাদের দুর্দিনকে মোকাবেলা করতে হবে। সবাই মিলে সেই দুর্দিনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

লেখক: এডুকেটর ও উন্নয়ন গবেষক

ইত্তেফাক/আরএ