করোনার প্রাদুর্ভাব, ধান কাটার শ্রমিকের অভাব ও আগাম বন্যার আশঙ্কা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন হবিগঞ্জের কৃষকরা।
জেলার ৯টি উপজেলায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে ইতিমধ্যে পাকতে শুরু করেছে বোরো ধান। কোথাও কোথাও শ্রমিক সংকট নিয়ে ধান কাটাও শুরু হয়েছে। কৃষকরা জানান, অন্যান্য বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিকরা ধান কাটতে আসত। কিন্তু এবার করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে যোগাযোগ বন্ধ ও বিভিন্ন জেলায় লকডাউন থাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে প্রকটভাবে। ফলে ঝড়, বৃষ্টি ও আগাম বন্যা দেখা দিলে মাঠেই পচবে তাদের সোনালি ফসল। এদিকে, হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে আগামী চার দিনের বৃষ্টিপাতে হবিগঞ্জে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮ ও হাইব্রিড জাতের বোরো জমি আবাদ হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার হেক্টর। এতে ৪ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন ধান উত্পাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বানিয়াচংয়ের কৃষক হারুন উল্লা জানান, সাড়ে তিন একর জমিতে ধান কাটার জন্য এখনো শ্রমিক যোগাড় করতে পারিনি। ইতিমধ্যে বিআর-২৮ ধান পেকে গেছে। সময় মতো ধান কাটতে না পারলে জমিতেই ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। অন্যদিকে, বাকি জাতের ধান আগামী ১০ দিনের মধ্যে কেটে শেষ করতে হবে। না হয় হাওরে পানি চলে আসবে। এখন কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।
যোগাযোগ করা হলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তমিজ উদ্দিন খান জানান, শ্রমিক সংকট পুষিয়ে ওঠার জন্য প্রত্যেকটি উপজেলায় ১৮ থেকে ২৭ জন শ্রমিক নিয়ে একটি ‘লেবার পুল’ গঠন করা হয়েছে। তারা কৃষকদের ধান কেটে দেবেন। এই পুলের মাধ্যমে ইতিমধ্যে বানিয়াচঙ্গে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও আগাম বন্যার আগে যাতে ধান কাটা শেষ হয় প্রয়োজনে হাওর এলাকায় কম্বাইন্ড হারবেষ্টর ও রিপার মেশিন ব্যবহার করা হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ সিলেট, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ থেকে ১১০ জন শ্রমিক দিয়ে বানিয়াচঙ্গে ধান কাটা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে এক সপ্তাহের জন্য খোরাকি হিসেবে তাদেরকে ২০০ কেজি চাল, ৫০ কেজি ডাল, আলু ও প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রত্যেক উপজেলাতেই একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
