আজ অনুষ্ঠিত হইতেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় এই নির্বাচন অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলই এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিতেছে। ইহার পাশাপাশি অনিবন্ধিত অনেক রাজনৈতিক দলও প্রধান দুই জোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হইয়া নির্বাচনে লড়িতেছে। আছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। সুতরাং এই নির্বাচনকে সবচাইতে অংশগ্রহণমূলক না বলিবার কোনো উপায় নাই। আবার তৃতীয়বারের মতো নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইতেছে, ইহাও কম গুরুত্বপূর্ণ নহে। মোট ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইতেছে। প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে একটি আসনে ভোট হইবে আগামী ২৭ জানুয়ারি। এবার মোট ভোটারের সংখ্যা ১০ কোটি ৪২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৬৭৭ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার পাঁচ কোটি ২৫ লক্ষ ৭২ হাজার ৩৬৫ জন ও নারী ভোটার পাঁচ কোটি ১৬ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩১২ জন । এই নির্বাচনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। বলা হইতেছে নারী ও তরুণ ভোটাররা এবার নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করিবেন। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থী সংখ্যা ১৮৬১ জন। রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণ এই নির্বাচনের অন্যতম প্রধান একটি বৈশিষ্ট্য। এই নির্বাচনে নূতন প্রায় এক কোটি ২৩ লক্ষ ভোটার প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতেছেন। ঢাকার দুইটিসহ মোট ছয়টি আসনে প্রথমবারের মতো ব্যবহূত হইতেছে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম। অন্যদিকে ৩৬টি ছিটমহলের অধিবাসীরা প্রায় ৭০ বত্সর পর এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতেছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবে তাহাদের মধ্যে দেখা দিয়াছে ব্যাপক উত্সাহ ও উদ্দীপনা। এই ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা এই সরকারের শ্রেষ্ঠ অবদানগুলির অন্যতম।
এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রহিয়াছে ছয় লক্ষ সদস্য। এবার নির্বাচনী প্রচারণার সময় কিছু সহিংসতার অভিযোগ উঠিলেও তাহা ছিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা। অতীতের দিকে তাকাইলে দেখা যাইবে, ১৯৯১ সাল হইতে বাংলাদেশের গত ছয়টি জাতীয় নির্বাচনই সহিংসতামুক্ত ছিল না। আমরা বাংলাদেশকে ইউরোপ-আমেরিকার সহিত তুলনা করিতে চাহি না। কেননা সেখানকার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য কয়েকশত বত্সরের। তাহারপরও সেখানকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়া আজকাল প্রশ্ন উঠিতে দেখা যায়। আর ভারতীয় উপমহাদেশে নির্বাচনের পূর্বে, নির্বাচনের দিন ও পরে সহিংসতার ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নহে। আসলে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থা টিকাইয়া রাখাই হইল বড় কথা— যাহাতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি মাথাচাড়া দিয়া উঠিতে না পারে। এইজন্য বরাবরই আমাদের অবস্থান নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে, বর্জনের পক্ষে নহে। আমরা বলিয়া আসিতেছি যে, নির্বাচনে সকল দল অংশগ্রহণ না করিলে সেই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হইবে না। প্রতিপক্ষ যখন ভোটের মাঠে থাকে না, তখনই কেবল নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়ম করা সহজ হয়। এবার নির্বাচনে যেহেতু সকল দল অংশগ্রহণ করিতেছে, তাই শেষপর্যন্ত ইহা অবাধ ও সুষ্ঠু হইবে বলিয়াই আমরা মনে করি। অতএব, এখন ভোটারদের দায়িত্ব নির্বিঘ্নে, নিশ্চিন্তে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়া পছন্দের প্রাথীকে ভোট প্রদান করা এবং দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখিতে সহায়তা করা।
