গাজীপুরের শ্রীপুরে মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী ও তার তিন সন্তানের গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামে একটি দোতলা বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাদের গলা কেটে খুন করে পালিয়ে গেছে বলে পুলিশ ধারণা করছে।
নিহতরা হলো ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার লংগাইর ইউনিয়নের গোলাবাড়ী গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী কাজলের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (৪০), তাদের দুই মেয়ে নুরা (১৫), হাওয়ারিম (১১) এবং প্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিল (৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজল দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার সময় ইন্দোনেশিয়ান মেয়ে ফাতেমাকে বিয়ে করেন। পরে শ্রীপুরের আবদার গ্রামে জমি কিনে বাড়ি তৈরি করলে তার স্ত্রী-সন্তানেরা এখানেই বসবাস করছিল। কাজলের আগের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার গোলাবাড়ী এলাকায়।
নিহত ফাতেমার দেবর কাজলের ছোটো ভাই আরিফ জানান, বুধবার রাতে তার ভাবি তাদের জন্য সকালবেলা বাজার থেকে গরুর মাংস আনতে বলেছিল। পরদিন সকালে বাজারের টাকা আনতে গিয়ে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। এভাবে দুপুর পেরিয়ে গেলেও তাদের সাড়া না পেয়ে মই বেয়ে দোতলায় উঠে ঘরের মেঝেতে রক্ত দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। তার ভাইয়ের কোনো শত্রু আছে বলে তার জানা নেই। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের ন্যায় গত বুধবার রাতে তারা সকলেই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় নিজ ঘরে ঘুমাতে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুর হলেও তারা কেউ ঘর থেকে বের না হওয়ায় নিহতের স্বজনরা দোতলায় উঠে ঘরের মেঝেতে রক্ত দেখতে পায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত আলী জানান, খবর পেয়ে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। পুলিশ পুরো বাড়িটি ঘিরে রাখে। লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কেন কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রাতে ঢাকা থেকে সিআইডির ফরসেনিক দল ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে বলে তিনি জানান।
