করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সুরক্ষামূলক সামগ্রী নকলে সয়লাব। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (হু) কর্তৃক অনুমোদিত এন-৯৫ মাস্কের নামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে এফএফপি-১এস মাস্ক। আবার আইসোপ্রোপাইল এলকোহল ছাড়া শুধু পানি ও রঙ মিশিয়ে বানানো নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এসব নকল পণ্য দেশে আরো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব নকল পণ্য কিনে সাধারণ মানুষ প্রতারণার পাশাপাশি তার করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকছে বেশি।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, করোনার মহামারিতে সুরক্ষামূলক সামগ্রী নকল হলে, তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। একজন ক্রেতা বিশ্বাস করে এসব পণ্য ব্যবহার করছেন। কিন্তু নকল পণ্য হওয়ায় তাকে ভাইরাস থেকে কোনো সুরক্ষাই দিবে না। এসব সামগ্রীর মধ্যে এন-৯৫ মাস্ক আমেরিকা ও চীনে তৈরি হয়। বর্তমান বিশ্বে এই মাস্কের তীব্র সংকট রয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী চীন থেকে মাস্ক আমদানি করে সেসবের গায়ে এন-৯৫ সিল লাগিয়ে দিয়ে বিক্রি করছে।
গতকাল রাজধানীর উত্তরায় নকল মাস্কের গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এন-৯৫ নকল মাস্ক আমদানি ও মজুত করার দায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাসুদ চৌধুরীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে আর কখনো এ ধরনের মাস্ক আমদানি না করতে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।
র্যাব-১ ও ওষুধ প্রশাসন গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর ভবনে অভিযান চালায়। সেখানে জাহানারা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে ৫ লাখ পিস নকল এন-৯৫সহ বিভিন্ন ধরনের মাস্ক মজুত রাখা হয় এক সপ্তাহ ধরে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, সপ্তাহখানেক আগে ৫ লাখ পিস নকল মাস্ক চীন থেকে আমদানি করেন ঐ প্রতিষ্ঠানের মালিক মাসুদ চৌধুরী। এ অভিযোগে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাস্কগুলো এন-৯৫ না হলেও সেগুলোর মান এফএফপি-১এস ক্যাটাগরির। এই ধরনের মাস্কও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু সেগুলোর গায়ে এন-৯৫ সিল লাগিয়ে দিয়ে আরো উন্নতমানের বলা হচ্ছে। বর্তমানে মাস্ক সংকটের কারণে এফএফপি-১এস মাস্কও করোনা প্রতিরোধে ব্যবহার করতে পারবে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এন-৯৫ সিল খুলে এফএফপি-১এস সিল বসিয়ে বিক্রি করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সংকটের সুযোগে এক শ্রেণির মানুষ নীল রং মিশিয়ে এক ধরনের তরল তৈরি করে বোতলে ভরে বিক্রি করছে। নিয়ম অনুযায়ী জীবাণু ধ্বংস করতে তরলে ৭০ ভাগ আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল মিশালে সেটি হবে জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার। রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকার ওষুধের দোকানের সামনে রাস্তায় বসে এসব ভেজাল স্যানিটাইজার বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন পাইকারি দোকানেও ছোটো ছোটো বোতলে ভরে এসব হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ রং দেখে সেগুলো কিনে নিচ্ছেন। কিন্তু করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এসব কোনো কাজেই লাগছে না।
