দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। ঝড়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গাছ পড়ে এক নৈশপ্রহরী মারা গেছেন। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ঝড়ে অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছেন। ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে অনেক ঘর বিধ্বস্ত ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খবর আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার কমলগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় গাছ পড়ে মনির মিয়া (৪৫) এক নৈশ প্রহরী মারা গেছেন। গতকাল দুপুরে ঝড়ে পাঁচ শতাধিক গাছ ভেঙে পড়েছে। ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে বিদ্যুত্লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে কমলগঞ্জ পৌরসভা, কমলগঞ্জ সদর ইউনয়িনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক গাছ ভেঙে পড়েছে। পৌরসভার মকবুল আলী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক ঘরের চাল উড়ে গেছে। অনেক ঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ জানান, ঝড়ের সময় তার পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের একটি করাত কলের নৈশপ্রহরী মনির মিয়া পাশের সেলিম মহালদারের একটি ঘরে আশ্রয় নেন। এসময় একটি মেহগনি গাছ ভেঙে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
কুমিল্লা : কুমিল্লার বেশ কয়েকটি এলাকায় বুধবার বিকালে আকস্মিক ঝড়ে ঘরবাড়ির টিনের চালা, গাছগাছালি ও ফসলাদির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে অনেক এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুত্সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঝড়ে জেলার বুড়িচং উপজেলার একাধিক স্থানে অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় এখানো বিদ্যুত্ বন্ধ থাকায় লোকজন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের ঘরে থাকা অপরিহার্য হলেও অনেকের ঘরের চালা উড়ে যাওয়ায় তারা ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। এছাড়া বরুড়া, চান্দিনা, বুড়িচং, দেবীদ্বার, দাউদকান্দি উপজেলাসহ জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় ঝড়ে কমবেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরুল হাসান জানান, ঝড়ে উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিদ্যুত্লাইনের ক্ষতি হয়েছে।
রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরে শিলাবৃষ্টিতে ফসল ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটি এলাকার জমির ধান, মৌসুমি বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া শিলাবর্ষণে ফুটো হয়ে গেছে বাড়িঘরের টিন। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকসহ সাধারণ মানুষ। উপজেলার বড়গাছা, আকনা-বাঁশবাড়িয়া, গিরিগ্রাম, শলিয়া, পানলা, ভাটকৈ, চামটা, আমিরপুর, লক্ষ্মীকোলা, গুয়াতাসহ বেশ কিছু গ্রামের কয়েক হাজার হেক্টর জমির পাকা-আধাপাকা ধান নষ্ট হয়ে যায়। ভাটকৈ গ্রামের শাহাজান আলী জানান, তিনি প্রায় ২৮ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন। শিলাবর্ষণে সব ধান ঝরে পড়ে গেছে। বিঘাপ্রতি হয়তো এক-দুই মণ ধান পেতে পারি। চামটার মিলন, গুয়াতা গ্রামের নওশাদ, জলকৈ গ্রামের দুলাল চন্দ্র, আকনা গ্রামের মোসলেম উদ্দীন জানান, পাকা ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, শিলাবর্ষণে কয়েক এলাকার আনুমানিক প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধারণা করছি। তার পরও মাঠকর্মীরা তালিকার কাজ শুরু করেছেন।
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : হঠাত্ শিলাবৃষ্টিতে নাসিরনগরের বিভিন্ন এলাকার হাওরের পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, ২২৫ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় ১০ মিনিট শিলাবৃষ্টি হয়। এর ফলে কাটার অপেক্ষায় থাকা অনেক এলাকার পাকা বোরো ধান নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর নাসিরনগর উপজেলায় বোরো ধানচাষ হয়েছে ১৭ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু পর পর দুই বার শিলাবৃষ্টিতে লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) : একদিকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এমনিতেই মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর আবার কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি। টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বৃহস্পতিবার বিকালে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে পাকা ধানক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং কমপক্ষে অর্ধশত ঘর-বাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ঝড়ে পাইশানার নবনির্মিত মারফত-জেরফন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। এদিকে ঝড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তাত্ক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস ছামাদ দুলাল বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার পাইশানা গ্রাম। নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মতিন বিশ্বাস বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালের হঠাত্ ঝড়ে উপজেলার সদর ইউনিয়নের আন্দিবাড়ী, পানান, পাইশানা বলরামপুর, ভাদ্রা ইউনিয়নের লক্ষ্মীদিয়া, কোদালিয়া, কাশিনারা ও দপ্তিয়র ইউনিয়নের ভূগোলহাটে ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
