দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরে ক্রমবর্ধমান কনটেইনার জটের প্রেক্ষিতে সকল আমদানি পণ্য বেসরকারি আইসিডিসমূহে সংরক্ষণ, আনস্টাফিং এবং খালাস করা যাবে। পূর্বে বেসরকারি আইসিডি (অফডক) সমূহে শুধুমাত্র ৩৮টি আমদানি পণ্য সংরক্ষণ, আনস্টাফিং এবং খালাস করা যেত। কিন্তু সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কনটেইনারের ডেলিভারি কমে যায়। কিন্তু জাহাজ থেকে আমদানি পণ্য আসা অব্যাহত থাকায় বন্দরে কনটেইনারের তীব্র জট সৃষ্টি হয়।
গত কয়েক দিন ধরে বন্দরের জেটিতে কনটেইনার রাখার জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক জাহাজকে জেটি এবং বন্দরের বহির্নোঙ্গরে অতিরিক্ত কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ছিল ৪৯ হাজার ২২৫টি, যা স্বাভাবিক ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া বহির্নোঙ্গরে ৩৩টি জাহাজ কয়েক দিন ধরে জেটিতে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। ঐ সকল জাহাজে প্রায় ৩৬ হাজার কনটেইনার রয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার শেষ পর্যন্ত বেসরকারি আইসিডিসমূহে সকল আমদানি পণ্য রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রেক্ষিতে এনবিআর গতকাল বৃহস্পতিবার একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলার অনুযায়ী কাস্টমসের সকল নিয়ম অনুযায়ী অফডক থেকে আমদানিকারকগণ তাদের পণ্য ডেলিভারি নিতে পারবেন। চট্টগ্রাম শহরে ও আশপাশে থাকা ১৯টি অফডকে প্রায় ১৮ হাজার কনটেইনার স্থান হবে বলে অফডক মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বন্দর পরিদর্শনে নৌপরিবহন মন্ত্রী
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জটসহ সার্বিক কর্মকাণ্ড দেখার জন্য গতকাল নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও নৌসচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছান। তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সকালে বন্দর চেয়ারম্যান সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে কনটেইনার জট কমানোর ব্যাপারে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ সাংবাদিকদের নিকট তুলে ধরেন।
এতে বলা হয়, সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শ্লথ হলেও চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকাণ্ড এর মধ্যেও স্বাভাবিক রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে যে কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়েছে তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিরসন হবে। দেশব্যাপী ছুটি থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখাসমূহ বিকাল পর্যন্ত খোলা থাকবে। সকল আমদানি পণ্য অফডকে যাবে। তাছাড়া বন্দর ব্যবহারকারী বিজিএমইএ, বিকেএমইএ যেন তাদের পণ্যবাহী কনটেইনারসমূহ দ্রুত ডেলিভারি নেয় সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সরকার চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবে।
প্রেসব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগামী প্রজন্মের জন্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৩ বছর বয়সে ঝুঁকির মধ্যে থেকে বন্দরসহ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে এই ব্রিফিংকালে নৌসচিব মেজবাহউদ্দিন চৌধুরী, বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শেখ আবুল কালাম আজাদ, সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
