বিজয়ের মাস চলছে। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের ঋণ কোনোদিন শোধ হবার নয়। বিএ ৬৯৬৬ আর এ এম খায়রুল বাশার এএসসি তেমনই একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বাঙালি সেনা কর্মকর্তা। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের তত্কালীন স্টেশন সাপ্লাই ডেপোর (এসএসডি) অফিসার কমান্ডিং ছিলেন। চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম এই বাঙালি সেনা কর্মকর্তার অধীন স্টেশন সাপ্লাই ডেপো পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বালুচ রেজিমেন্ট কর্তৃক আক্রান্ত হয়। লক্ষ্য ছিল ক্যাপ্টেন বাশারের হাত থেকে স্টেশন সাপ্লাই ডেপোর নেতৃত্ব ছিনিয়ে নেওয়া। কিন্তু ক্যাপ্টেন বাশার তাঁর অধীনস্ত সৈনিকদের নিয়ে পাকিস্তানিদের সেই আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করে শক্রদের সেখান থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হন। তিনিই প্রথম চট্টগ্রাম সেনানিবাসে তাঁর এক বছর বয়সী কন্যাসন্তানের প্যারাম্বুলেটরে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উড়িয়ে সারা সেনানিবাস এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। তাঁর অসম সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা ক্যান্টেনমেন্টের একটি সড়ক (সাবেক স্টাফ রোড) ক্যাপ্টেন বাশার রোড, খুলনা জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটক শহীদ ক্যাপ্টেন বাশার গেইট, খুলনা জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্টের শহীদ ক্যাপ্টেন বাশার মার্কেট ও নীলফামারীর শহীদ ক্যাপ্টেন বাশার তোরণ স্থাপিত হয়েছে। বিটিভির ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানের ‘নীলফামারী পর্ব’-এ নীলফামারী জেলা শহরের প্রবেশ মুখে নির্মিত শহীদ ক্যাপ্টেন বাশার তোরণটি দেখানো হলেও তাঁর বীরত্বগাথা নিয়ে কোনো তথ্য প্রদান করা হলো না। ঐ ইত্যাদি অনুষ্ঠানে পল্লিগীতি সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহেমদ, রাজনীতিবিদ খয়রাত হোসেন, নীলফামারী গার্লস হাই স্কলের প্রধানশিক্ষক আবু নাজেম মোহাম্মদ আলী ও বিশিষ্ট পল্লিসংগীত শিল্পী হরলাল রায় সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হলেও নীলফামারী হাই ইংলিশ স্কুল (বর্তমানে নীলফামারী গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল)-এর প্রথম মুসলিম প্রধানশিক্ষক আছির উদ্দিন আহেমদ ও তাঁর সুযোগ্য সন্তান শহীদ ক্যাপ্টেন বাশারকে এড়িয়ে নীলফামারীর খণ্ডিত ইতিহাস প্রচার করা হলো। অথচ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ক্যাপ্টেন বাশারের রক্তঋণ যেমন কোনোদিন শোধ হবার নয় তেমনি শিক্ষাগুরু আছির উদ্দিন আহেমদের ঋণও শোধ হবার নয়। তাঁরা দুজনেই অমর। তাঁদের নাম নীলফামারী তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
জেড এ এম খায়রুজ্জামান (তপু)
ঢাকা
