করোনা ভাইরাসের বিস্তার বাড়ার অজুহাতে রাজধানীসহ সারাদেশে রমজানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। সাধারণ ছুটি ও লকডাউনের প্রভাবে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। বিশাল জনগোষ্ঠী হারিয়েছে তাদের কাজ ও আয়। মার্কেট, শপিং মল, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বাধ্যবাধকতার কারণে স্বল্প পরিসরে নির্দিষ্ট সময়ে খোলা থাকলে রমজানে নানা রূপ সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সব নিয়ে বাড়ছে জনমনে ক্ষোভ।
জনরোষ সৃষ্টিসহ ছিনতাই, রাহাজানি এবং জঙ্গি তত্পরতা বৃদ্ধিরও আশঙ্কা রয়েছে। জাতীয় ঈদগাহসহ ঢাকা মহানগরীর অন্যান্য ঈদগাহে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে। জঙ্গিরা করোনা ভাইরাসকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এ জন্য পুলিশ ও র্যাবকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেউ যেন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের কার্যক্রমের সুযোগে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করতে না পারে।
সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুস্থ ও গরিবদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরীসহ দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। এছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গার্মেন্টসসহ শিল্প কারখানার বেতন-ভাতা বকেয়া থাকার কারণে শ্রমিক অসন্তোষ হতে পারে।
এ সব বিষয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, রমজানে ইফতার পার্টি ও সেহরি পার্টি বন্ধ থাকবে। মানুষ ঘরোয়া পরিবেশে ইফতার ও সেহরি করবে। সাধারণ ছুটি ও লকডাউনের কারণে ফাঁকা সড়কে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই প্রতিরোধে র্যাবের অতিরিক্ত টহল টিম থাকবে। যেহেতু করোনার কারণে এ বছর রমজানের চিত্রটি ভিন্ন, তাই বিষয়টিকে র্যাব অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। জঙ্গিরা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়টিও নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, ইফতার পার্টি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান গণজামায়েত বন্ধ রাখতে হবে। ঢাকা মহানগরীতে ইফতারসামগ্রী বিক্রির ক্ষেত্রে সীমিত আকারে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। গরিব, দুস্থ অসহায়, বস্তিবাসী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ইফতার সেহরির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সরকারের ঘোষণা ছাড়া কাঁচাবাজার ও খবারের দোকান যেন খোলা না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। খোলা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইসলামী ফাউন্ডেশনের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। ত্রাণের বিষয়ে যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার জন্য ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।
