গাজীপুরে বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:৪৯

করোনার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে গাজীপুরে বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর বিক্ষোভ করেছে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এসময় কারখানাগুলোর গেটে অবস্থান ধর্মঘট করে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর আব্দুল জলিল ও শ্রমিকরা জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর সবুজ কানন এলাকার ডেল্টা গ্রুপের ডেল্টা স্পিনিং মিলের শ্রমিকরা মার্চ মাসের বেতন-ভাতা বৃহস্পতিবার পরিশোধের কথা ছিল। শ্রমিকরা বেতন-ভাতা গ্রহণের আশায় সকাল হতে কারখানার গেটে জড়ো হয়ে অবস্থান নেয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের পর বেতন-ভাতা না পেয়ে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা গেটে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় কারখানার সামনের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বিকালে পুলিশের মধ্যস্থতায় কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে কারখানা কর্তৃপক্ষ আগামী ৩০ এপ্রিল শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কর্মসূচি স্থগিত করে ঘরে ফিরে যায়।

অপরদিকে, মহানগরীর ছয়দানা হারিকেন এলাকার আমরিন সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরাও একই দিন মার্চ মাসের বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। গতকাল তাদেরও বেতন-ভাতা পরিশোধের পূর্বনির্ধারিত দিন ছিল। তারা কারখানার সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেখানেও পুলিশের মধ্যস্থতায় বিকালে শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নেয়।

এদিকে একই দিন মহানগরীর নাওজোর এলাকার পলিব্যাগ ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানার শ্রমিকরা সকাল হতে বিক্ষোভ করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ওভারটাইম ও মার্চ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে এ বিক্ষোভ করে। এক্ষেত্রেও পুলিশের মধ্যস্থতায় কর্তৃপক্ষ আগামী ৩০ এপ্রিল পাওনাদি পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কর্মসূচি স্থগিত করে কারখানার সামনে অবস্থান নেয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গাজীপুরের অধিকাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করে উত্পাদন বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। হঠাত্ করে ছুটি ঘোষণা করায় সৃষ্ট নানা জটিলতার কারণে বেশকিছু কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ পাওনাদি পরিশোধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে এসব শ্রমিক গত কয়েক দিন ধরে করোনার ঝুঁকি উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে আসছে। কর্মসূচি পালনের সময় তারা সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুন মানছে না।