কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:৪৯

পবিত্র রমজান ও করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন থেকে আমদানিকৃত নিত্যপণ্য জরুরিভিত্তিতে দ্রুত খালাস করা হবে। সারাদেশে নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে সৃষ্ট কনটেইনারজট নিরসনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়েও পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে এবং বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উত্পাদন, মজুত, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়ানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডলারের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া ও  টিসিবির ট্রাক সেল পুনর্বিন্যাস করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনার কারণে সারাদেশে এখন ছুটি থাকলেও টিসিবির পণ্য (ট্রাক সেল) রাজধানীর অনেক স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে সেখান থেকে সাধারণ মানুষ সহজেই এসব পণ্য কিনতে পারছে না। ইতিমধ্যে অনেক ভোক্তা এ ব্যাপারে অভিযোগও জানিয়েছেন। এ অবস্থায় টিসিবির ট্রাক সেল পুনর্বিন্যাস করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছে দিতে চায় সরকার।

এদিকে রমজান শুরু না হতেই বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখন বাড়তির দিকে। গতকাল সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রতিবছর সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও একশ্রেণির অসত্ ব্যবসায়ী অধিক চাহিদার কথা বলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। এসব আড়তদারদের মজুত কার্যক্রম নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চাল, ডাল, চিনি, আটা, খেজুর, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।

গতকালের সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, কেউ কৃত্রিম উপায়ে কোনো পণ্যের সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত আগে থেকেই বাড়ানো হয়েছে। দেশীয় উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের চাহিদার তুলনায় অধিকপণ্য উত্পাদন করছে। কোনো পণ্যেরই সংকট নেই এবং মূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। তিনি সকল পণ্যের সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গঠিত টাস্কফোর্স এবং বিভিন্ন কমিটিকে আরো তত্পর হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, আশা করছি, কোনো সমস্যা হবে না। করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের বাজারে এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ ওষুধসামগ্রীর বিকল্প বাজার সন্ধানে এখন থেকেই আমদানিকারকদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সঞ্চালনায় সভায় বাংলাদশে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপন কান্তি ঘোষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাসান জাহাঙ্গীর, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল, দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান  গোলাম  মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।