এক বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৩৮ ভাগ

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১১

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় সাড়ে ৩৮ শতাংশ। চলতি বছর ২০১৮ সালে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৯১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। যা গত বছরের (২০১৭) চেয়ে ৮৩ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা বা ৩৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। ২০১৮ সালে ২৪২ কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয় ৫৫২ কোটি টাকা। অপরদিকে ২০১৭ সালে ২৪৮ কার্যদিবসে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার ৯৫৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং গড়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ডিএসইর হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৮ সালের অর্জন সম্পর্কে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. এ. এম. মাজেদুর রহমান বলেন, নির্বাচনী বছর উপলক্ষে ২০১৮ সালে বাজারে কিছুটা গতি মন্থরতা দেখা গেছে। আশানুরূপ যে গতি অর্জন করার কথা ছিল তা অর্জন করতে না পারলেও দেশের পুঁজিবাজার এমন একটি মাত্রায় অবস্থান করতে পেরেছে যার ফলে বাজারে তেমন কোনো সংকট দেখা দেয়নি বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, এ বছরে নতুন কিছু প্রোডাক্ট চালু করার কথা ছিল যেমন এসএমই এবং অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড। এই বিষয়ে ডিএসই প্রযুক্তিগত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নতুন বছরের শুরুর দিকেই ডিএসই নতুন এ বিষয়গুলো চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, একটি উন্নত ও কার্যকর বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠা বিষয়েও ডিএসই কাজ করছে। নতুন বছরের বাজেটে প্রণোদনা পাওয়া সাপেক্ষে বন্ডমার্কেটও শীঘ্রই চালু করা সম্ভব। এছাড়া মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিশেষ করে একটি ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজ বাজারে আনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বেশকিছু প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সবচাইতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আমরা করতে পারব কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় প্রযুক্তিগত উত্কর্ষ। আশা করি নতুন বছর এ অর্জনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের এক নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আইপিও

শিল্প উদ্যোক্তারা ২০১৮ সালে বাজার থেকে ১টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ মোট ১৪টি সিকিউরিটিজ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে ৬০১ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ২টি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ২৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা মূলধন উত্তোলন করে। অপরদিকে ২০১৭ সালে ২টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড সহ মোট ৮টি সিকিউরিটিজ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে মোট ২৪৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ১টি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা মূলধন উত্তোলন করে।

তালিকাভুক্তি

২০১৮ সালে ১টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ মোট ১২টি সিকিউরিটিজ ১২১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়। অপরদিকে ২০১৭ সালে ৩টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড সহ মোট ১০টি সিকিউরিটিজ ৮৩৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়েছিল।

রাইট শেয়ার ইস্যু

২০১৮ সালে ২টি কোম্পানি ১০ কোটি ৯৪ লাখ রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মোট ২৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। আগের বছর ৪টি কোম্পানি ৮৬ কোটি ৮০ লাখ রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করেছিল ১১১৪ কোটি ২ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩টি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ মূলধন উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ২৪৬ কোটি ২ লাখ টাকা।

ডিএসইর ইনডেক্স

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের বছরের চেয়ে ৮৫৮ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বা ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫৩৮৫ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসই ৩০ সূচক (ডিএস৩০) ৪০২ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বা ১৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৮৮০ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইর শরীয়াহ্ সূচক (ডিএসইএস) ১৫৭ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১২৩২ দশমিক ৮২ পয়েন্টে রয়েছে।

বাজার মূলধন

সূচকের পাশাপাশি ডিএসই’র বাজার মূলধনও হ্রাস পেয়েছে। ডিএসই বাজার মূলধন আগের বছরের তুলনায় ৩৫ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালে বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা।

জিডিপির অনুপাতে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডে ২০১৮ সালের শেষে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ সমূহের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ২১ শতাংশ, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। যেমন থাইল্যান্ড (এসইটি) মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত ১১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ইন্ডিয়া (বিএসই) ৮৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ, পাকিস্তান (কেএসই) ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা (সিএসই) ২৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, নেপাল (এনইপিএসই) ৭০ শতাংশ এবং মালয়েশিয়া (বুরসা মালয়েশিয়া) ১৪২ দশমিক ২৪ শতাংশ।

তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ সমূহের কার্যক্রম

২০১৮ সালে ২৯৬টি কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মধ্যে ১৭৯টি কোম্পানি ২ শতাংশ থেকে ৭৯০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছর ২০১৭ সালে ২৯১টি কোম্পানি তাদের বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন করে এবং তাদের মধ্যে ১৮৭টি কোম্পানি ২ শতাংশ থেকে ৭৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

রাজস্ব

২০১৭-১৮ অর্থবছরের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লি. ২৩৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করেছে। এর মধ্যে ব্রোকারেজ কোম্পানি থেকে উেস কর ১৫৯ কোটি টাকা, স্পন্সর এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারের সিকিউরিটিজ বিক্রয় বাবদ ৭৪ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রি বাবদ মূলধনী আয়ের ওপর ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

ওটিসি মার্কেট

২০১৮ সালে ওটিসি মার্কেটে শেয়ার লেনদেন আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ওটিসি মার্কেটে মোট ২ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়। যার মূল্য ৭০ কোটি ৩১ লাখ টাকা। অপরদিকে গত বছরে শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮ লাখ ৮৫ হাজার শেয়ার। যার মূল্য ছিল ৭২ কোটি ৮১ লাখ টাকা।